ধর্না - তারিফ আলম

19th May 2020 7:47 pm তারিফ আলম
ধর্না - তারিফ আলম


ছোটগল্প - ধর্না

লেখা - তারিফ আলম

ট্রেনটা বেলদা স্টেশনে থামতেই সরলাদেবী নিজের হাতে করে কাগজগুলো নিয়ে নেমে পড়লেন । সবে সূর্যের আলো পুব আকাশে দেখা দিয়েছে । গভীর রাতেই হাওড়া স্টেশনে ট্রেন ধরেছিলেন , তাই ভোরে বেলদাতে পৌঁছে গিয়েছেন । গতকাল কিছুই খাওয়া হয় নি , বাড়ীবালা ভাড়া বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার পর কাঁদতে কাঁদতে সেই যে বেরিয়েছিলেন বাড়ী থেকে , এখন এসে পৌঁছালেন বেলদাতে । এখানে তাঁর একমাত্র ছেলে থাকে । স্কুল মাস্টার সে । নিজের স্বামী যখন বেঁচে ছিল তখন সরলাদেবীর কোন অভাব ছিল না । স্বামী অমলবাবু ভালো বিজনেস করতেন । একমাত্র ছেলে রতনকে অনেক আদর দিয়ে দুজন মিলে বড় করে তুলেছিলেন । পড়াশুনা করে স্কুল শিক্ষকের চাকরি পেয়ে নদিয়া থেকে বেলদাতে চলে আসে সে । এখানেই একটি মেয়েকে ভালোবাসা করে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ীতেই থেকে যায় সে । বাড়ীতে যাতায়াত প্রায় বন্ধ করে দেয় । এদিকে সরলাদেবীর স্বামী ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন । তাঁকে সুস্থ করে তুলার জন্য সব জমানো টাকা পয়সা শেষ হয়ে যায় , নিজের সমস্ত গহনাও বিক্রি করে দেন সরলাদেবী । কিন্তু অমলবাবুকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন ।
কিন্তু একমাত্র ছেলে দেখা সাক্ষাৎ নেই । খবর দিলেও আসে না । সে ভাবে তার টাকা সব নিয়ে নেওয়ার জন্য ফন্দি করছে তার বাবা মা । বাড়ীভাড়া দিতে না পারায় যখন বাড়ীবালা সরলাদেবীকে অপমান করে বের করে দিল তখন তিনি আর উপায় না পেয়ে ট্রেন ধরে একদম ছেলের বাড়ীর সামনে চলে এলেন । ছেলের বাড়ীর সামনে এসে ছেলের নাম ধরে ডাকলেন বৃদ্ধ মা । কিন্তু কোন সাড়া এল না । তখন তিনি হাতের কাগজ গুলো নিয়ে একটা পেন দিয়ে লিখতে লাগলেন প্ল্যাকার্ড ।
একটায় লিখলেন – “ দশ মাস দশ দিন কষ্ট করে পেটে ধরে জন্ম দেওয়ার দাম দে তোর মাকে রতন”।
অন্যটায় লিখলেন – “ মায়ের দুধের দাম দে “।
পরেরটাই লিখলেন – “ ছোটবেলায় তোর অসুখ হলে সারা রাত তোর মাথার কাছে বসে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম তোর সুস্থতার জন্য – সেই রাত জাগার দাম দিয়ে যা রতন “।
আর একটা কাগজে লিখলেন – “ তোকে ছোটে থেকে আদর যত্ন করে পড়াশুনা করিয়ে চাকরি পাওয়ার যোগ্য বানালো তোর বাবা । বিয়ের পর বউকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ীতে থেকে বাবা - মায়ের এতদিনের কষ্টের কথা ভুলে গেলি । তুই দাম দিয়ে যা ছোট থেকে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত তোর পড়াশুনার ও লালন – পালনের” ।
শেষ কাগজে লিখলেন – “ কোন মা তার ছেলের কাছে তার ভালোবাসার দাম চায় না , কিন্তু আমি বাধ্য হলাম চাইতে । তোর বাবা যখন অসুস্থ তখন তুই যাসনি বাড়ী । ভেবেছিস হয়তো বাবার জন্য টাকা খরচ করতে হবে ।
তোর বাবার মৃত্যুর পর তুই ছাড়া আমার আর কেউ নেই । কিন্তু তুইই যখন মুখ ফিরিয়ে নিলি তখন এই অসহায় বৃদ্ধার ধর্নায় বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই । আমার এতদিনের ভালোবাসার দাম মিটিয়ে দে – আমি চলে যাবো”।
--- কাগজ গুলো পাশে রেখে দিয়ে সরলাদেবী ছেলের বাড়ীর সামনেই বসে পড়লেন ধর্নায় । অল্প সময়ের মধ্যেই পাড়ার লোকেরা এসে ভিড় করলো । এমন ধর্না আগে কেউ কোন দিন দেখেন নি । প্রেমিক – প্রেমিকারা বিয়ের জন্য এখন অনেক ধর্না করছে বাড়ীর সামনে এসে । কিন্তু কোন মা তার ছেলের বাড়ীর সামনে এসে ভরন পোষণের দাবীতে ধর্নায় বসতে দেখেননি কেউ ।
খুব দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে খবরটা । বাড়ী থেকে ছেলে বেরিয়ে আসতেই তার বউ চিৎকার করে বলে – “ এখনি ঘরে ঢুকো বলে দিচ্ছি । বুড়ি আর জায়গা পেল না , এখানে নাটক করতে এসেছে । ভেবেছে ছেলের ইনকামের টাকা নিয়ে ফুর্তি করবে । কিন্তু তা হতে দেব না “। - এই বলে ছেলের বউ অনন্যা স্বামী রতনকে টেনে নিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায় । তারপর বাড়ীর বাইরে বেরিয়ে এসে সরলাদেবীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে । চিৎকার করে বলতে থাকে – ‘ বুড়ি চলে যা এখান থেকে , ছেলের টাকার প্রতি অনেক লোভ তোর । দূর হয়ে যা এখন থেকে”।
সরলাদেবী কাঁদতে কাঁদতে বললেন – “কোথায় যাবো আমি এই বৃদ্ধ বয়সে , আমার যে আর কেউ নেই “।
বউ মা মুখ ভেংচে বলল – “ কোথায় যাবে আমি কি করে বলল , কোথাও গিয়ে ভিক্ষে করে খাবে যাও । ভিক্ষে না পেলে রেল লাইনে গলা দিয়ে মরবে যাও , কিন্তু এখান থেকে চিরদীনের মতো চলে যাও “।
এবারে পাড়ার লোকেরা এগিয়ে এল । তারা বলাবলি করতে লাগলো শাশুড়ির সাথে এমন ব্যবহার করা উচিত না । বেগতিক দেখে ছেলের বউ বাড়ীর মধ্যে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল ।
সরলাদেবী তেমনি ধর্নায় বসে থাকলেন । পাড়ার কয়েকটা মহিলা জল আর খাবার নিয়ে এসে সরলাদেবীকে দিলেন খেতে । কিন্তু সরলাদেবী কোন কিছুই মুখে তুললেন না । সেখানেই বসে বসে কাঁদতে লাগলেন ।
বিকালের দিকে পাড়ার লোকেরা খবর দিল পঞ্চায়েতে । রতন এর বাড়ীর সামনেই সবাই বসলো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য । আলোচনায় রতন আর তার বউকেও ডাকা হল ।
এভাবে একজন মা ধর্না দিচ্ছে ছেলের বাড়ীর সামনে , খবর বাইরে গেলে আমাদের এলাকার বদনাম হয়ে যাবে । তাই পঞ্চায়েত প্রধান সিদ্ধান্ত নিলেন যে – “ রতন এর মায়ের ভরন পোষণ এর সব দায়িত্ব রতনকেই নিতে হবে “।
পঞ্চায়েত এর সিদ্ধান্ত শুনে রতনের বউ অনন্যা রেগে গজগজ করতে করতে বাড়ীর মধ্যে দ্রুত চলে যায় । রতন আস্তে আস্তে গিয়ে মায়ের পাশে বসে । দু দিন না খেয়ে অসুস্থ মা শুয়েছিল মাটিতে । ছেলেকে পাশে দেখে উঠে বসার চেষ্টা করে , কিন্তু পারে না । রতন মাকে ধরে বসিয়ে দেয় । সরলা দেবীর চোখে জল । কতদিন পর ছেলেকে পাশে পেল । সেই যে ৫ বছর আগে ঘর ছেড়ে চাকরি করতে এই বেলদাতে এসেছিল – তারপর আর যায় নি । স্বামীও মরার সময় দেখতে পেল না । কতবার ডেকেছিল ছেলেকে । টাকাই কি এই পৃথিবীতে সব , স্নেহ – ভালোবাসার কি কোন দাম নেই ।
সরলাদেবী ছেলেকে পাশে টেনে নিয়ে বলেন – “ আয় আমার বুকে আয় , কতদিন তোকে দেখিনি । আজ প্রান ভরে দেখে নিতে দে । তোর মনে আছে যখন তুই ছোট ছিলি আর তোকে চিকেন পক্স হয়েছিল , তুই কষ্টে যখন কাঁদতিস, আমি তোকে এই ভাবে বুকে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম আর আমিও চুপিচুপি কাঁদছিলাম । আসলে তোর কষ্ট সহ্য করতে পারতাম না । তোর টাকার আমার দরকার নেই রে । শুধু তোকে দেখতে এত দূরে ছুটে এসেছিলাম । তুই আমার একমাত্র সন্তান , তোকে যে আমি অনেক ভালোবাসি “।
রতন এরও চোখে জল । সে বলল – “ মা ঘরে চলো “।
“না রে , আর যাবো না , বউ মা রাগ করে আছে , তুই বরঞ্চ আমার বুকে আয় একটু । বুকে জড়িয়ে ধর একটু । আর যে কষ্ট সহ্য করতে পারছি না , উউউফফফফ ।
রতন মাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো – “আমার ভুল হয়ে গিয়েছে মা । আমার বউ সব সময় টাকার কথা বলে বলে আমার মাথা খারাপ করে দিয়েছিল । সে চাইত না যে আমি তোমাদের জন্য কোন টাকা খরচ করি । তাই সে তোমাদের কাছে যেতে দেয় নি । আমাক মাফ করে দাও মা”।
মায়ের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে রতন বুক থেকে সরাতেই মায়ের হাত টা নীচের দিকে পড়ে গেল । মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল – মা এর মুখে হাসের রেখা , চেয়ে আছে রতনের দিকে নিথর চোখে । দু গাল বেয়ে অশ্রু চুইয়ে পড়ছিল ।
রতন জোরে জোরে মাকে নেড়ে ডাকতে লাগলো – মা মা মা বলে । কিন্তু সে আওয়াজ আর মায়ের কানে পৌঁছাবে না কোনদিন ।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?