ছলনা
লেখা - কথাকলি
আজ ঘুম ভেঙেই দেখলাম আকাশ মুখ ভার করে রয়েছে। আমারও মনটা খারাপ হয়ে গেলো। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছিলো না। জানলা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম দূরের ঘোলাটে আকাশের দিকে। দেখছিলাম বৃষ্টিস্নাত গাছগুলো, বাড়ির ছাদে এন্টেনার ওপর বসা ভেজা কাকা। কেমন যেনো একটা উদাস,মনখারাপ করা সকাল নিয়ে দিনটা শুরু হলো।
চা আর বিস্কুট নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম। আমাদের তিনতলার বারান্দা থেকে রাস্তার মোড় পর্যন্ত অনেকটা দূর দেখা যায়। বাড়ির নীচেই নিজেদের ওষুধের দোকান,আমার দিদার নামে "মণিকুন্তলা ফার্মেসী"। আমি দোকানে বসি সন্ধ্যের দিকে, তখন ভীড় থাকে বেশি। প্রায় রাত বারোটা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। সকালে আমার ছুটি। নিজস্ব কাজকর্ম করি। আমি ফ্রিল্যান্সার লেখক। ইদানীং মুকুন্দপুর নিবাসী বিপ্রদাস মিত্রের একমাত্র মেয়ের সাথে আমার বিয়ের পাকা কথা চলছে। আর তার কিছুদিন পরেই বেশ কয়েকবার আমার কাছে একটা রহস্যজনক ফোন আসা শুরু হয়। একটি মহিলা বেশ কমবয়সী (গলা শুনে মনে হয়)। নাম বলে না, শুধু বলে যে বিশেষ জরুরী কথা আছে একবার সামনাসামনি দেখা করতে চায়। ভেরি ইন্টারেস্টি !! সে আজ সন্ধ্যে সাতটার দিকে পাটুলী ফ্লোটিং মার্কেটের উল্টোদিকে বাইপাসের ধারে যে পার্ক আছে সেখানে থাকবে বলেছে।
আমি গাঢ় নীল রঙের চেক শার্ট আর ব্লু ফেডেড জিন্স পরেছি। ফোনে বলে দিয়েছি পোষাকের বিবরণ। খুঁজে নিতে অসুবিধে হবে না। সারাদিন একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে বিকেলেও আকাশ মেঘলা ছিলো। সন্ধ্যেবেলা মেঘলা, থমথমে একটা ভাব। হাল্কা ভেজা ভেজা ঠান্ডা আবহাওয়া। পাটুলী পার্কে গায়ক নচিকেতার নামে একটি টি-স্টল আছে। বাদাম, ঝুড়িভাজা,মশলা চা,পানীয় ঠান্ডা জলের বুথ,চারিপাশ রেলিং দিয়ে ঘেরা মনোরম ফোয়ারা বিশিষ্ট জলাশয়,তার চারধার দিয়ে সুন্দর সাজানো বেঞ্চ, বিনোদনের সবরকম ব্যাবস্থাই এখানে আছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাতঘড়িতে সময় দেখছিলাম এমনসময় পাশ থেকে শুনতে পেলাম- "কতক্ষণ এসেছেন?" তাকিয়ে দেখি একজন মহিলা। মাঝারি গড়ন,সবুজ রঙের একটি সিল্কের শাড়ি পরা,হাতে দুগাছা সোনার চুড়ি। গায়ের রঙ শ্যামলা। কিন্তু মুখ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না, উনি একটা পাতলা সিল্কের চাদর দিয়ে মুখটা যথাসম্ভব ঢেকে রেখেছেন। আমি কারণ জানতে চাইলে,বললেন এভাবে দেখা করতে আসাটা উনি গোপন রাখতে চান। একটা নিরিবিলি বেঞ্চ দেখে বসলাম। পার্কের এক কোণে গাছের ছায়ার নীচে এরকম এক মেঘলা সন্ধ্যেবেলার আলো-আঁধারী আবছা আলোতে সম্পূর্ণ অপরিচিতা,অবগুণ্ঠিতা একজনের সাথে নিজেকে একা এই অবস্থায় !!..... কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিলো। উনিই প্রথম কথা বলা শুরু করলেন। নাম দীপ্রা। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকতা করেন। এবার উনি যেটা বললেন সেটা এইরকম যে,আমরা যে বাড়িতে বিয়ের সম্বন্ধ করছি,সেখানে পাত্রীপক্ষ খুব একটা ভালো নয় এখন থেকেই সতর্ক না হলে পরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এর বেশি পরিস্কার করে আর কিছুই বললেন না। নতুন পরিচয়ে আমিও খুব একটা জোড় করতে পারলাম না। উনি শুধু বারবার আমাকে সতর্ক ও সাবধান করে দিলেন। কিছুক্ষণ পরেই খুব তাড়াতাড়ি মেয়েটি চলে যায়, যাওয়ার সময় শুধু বলে পাত্রী ওর খুবই ঘনিষ্ঠ পরিচিতা। ঘনায়মান রাতের অন্ধকারে জোরালো নিয়ন বাতির আলোয় কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে মেয়েটি যেনো বাতাসে মিলিয়ে গেলো। আবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দুঃশ্চিন্তায় পরে গেলাম। এক কাপ মশলা চা নিয়ে গাছের অন্ধকার ছায়ার তলায় বেঞ্চে বসে ভাবতে থাকলাম যে,আদৌ এটা সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নাকি বিয়ের ভাংচি !!
আমার বাড়ির লোক ব্যাপারটাকে কোনো গুরুত্বই দিলেন না। শুভলগ্নে মুকুন্দপুরের মিত্তির বাড়িতেই আমার গাঁটছড়া বাঁধা হয়ে গেলো। আমার নতুন বৌএর নাম অঙ্গিরা। বিয়ের তালেগোলে আমি বেমালুম ওই রহস্যজনক মহিলার কথা ভুলেই গেলাম। নতুনবৌ অঙ্গিরা বেশ করিৎকর্মা। এসেই বাড়ির সকলের মন জয় করে নিলো। কাজেকর্মে অসম্ভব পটু। রান্নাবানা, ঘরের যাবতীয় কাজ, সবেতেই ভীষণ পারদর্শী। বাড়ির আত্মিয়স্বজন মায় পাড়াপ্রতিবেশী পর্যন্ত প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ধীরে ধীরে দেখা গেলো অঙ্গিরা শুধুমাত্র যে গৃহকর্মেই নিপুণা, তা নয় বাইরের কাজকর্মেও সমান দক্ষ। আমরা যতদূর জেনেছি ওর কোনোদিন চাকরি করার অভিজ্ঞতা ছিলোনা । কিন্তু এ মেয়ে তো সমস্ত কোলকাতার অলিগলি তস্যগলি সবই চেনে! এখন ঘরের কাজের সাথে সাথে বাইরের ব্যাংকের কাজ, দোকানে বসা সবই মোটামুটি একা হাতে দিব্যি সামলে নিচ্ছে। আমি জানতে চাইলে ও বলল যে একসময় এল.আই.সি'র এজেন্টের কাজ করেছে, সেই কারনে প্রচুর ক্লায়েন্টের কাছে যেতে যেতে কোলকাতার এতো রাস্তাঘাট চেনা হয়ে গেছে। এসব দেখে-শুনে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা খুব নিশ্চিন্ত হলেন।
বেশ কয়েকমাস পরে,আমাদের মধুচন্দ্রিমা করতে যাওয়ার জন্য খুব সাধারণ একটা জায়গা পছন্দ করা হলো, মুকুটমণিপুর। খুব নিরিবিলি শান্ত মনোরম জায়গা। অঙ্গিরাই দায়িত্ব নিয়ে গেস্ট হাউস বুক করলো। ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে বেশ সুন্দর একটা রোদ ঝল্ মলে দিনে আমরা বেড়িয়ে পরলাম। সন্ধ্যের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম। ছোট্ট একটা রিসর্ট। জায়গাটা এমনিতেই খুব নিরিবিলি আর কেমন একটা নিবিড়,সবুজাভ প্রাকৃতিক মাদকতা আছে ওখানের বাতাসে। আমাদের রিসর্টের নাম 'বাহার'। পিছনদিকে অনেকটা জায়গাজুড়ে জঙ্গলের মতো। জঙ্গল পেরিয়ে গিয়ে বিরাট বড়ো একটা ঝিল, অনেক পাখি আসে সেখানে। অনেকে এখানে পাখি শিকার করতে আসে। ঝিল পার হয়ে ডান দিকে অনেক দূরে ধূসর পাহাড়। বাঁ দিকে আদিবাসী বস্তি। একেবারে সবুজ প্রকৃতির কোলে মনোমুগ্ধকর একটা পরিবেশ।
আমাদের শোবার ঘরের লাগোয়া একটা খুব সুন্দর বারান্দা ছিলো। সেখান দিয়ে দূরের জঙ্গল, ঝিল,পাহাড় সবই দেখা যেতো। প্রথমদিন সন্ধ্যেবেলা ওখানে বসে চা আর সামান্য কিছু জলযোগ সহযোগে দুজনে বেশ গল্প করলাম। একয়দিনেই বুঝেছি যেকোনো ব্যাপারেই অঙ্গিরা খুব সাবলীল। আমার সাথে এমনভাবে মেশে যেনো কতো আগে থেকেই আমাকে চেনে। বাড়ির কে,কি পছন্দ করে, কার কি অপছন্দ সব বুঝে নিয়েছে এরই মধ্যে। বারান্দায় বসে কথা বলতে বলতে কেনো জানিনা হঠাৎ মাথার মধ্যে একঝলক ওই অপরিচিতা মহিলার অবগুণ্ঠিতা চেহারা ভেসে উঠলো।
রাতে পরোটা মাংস খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলাম। পরদিন অনেক ভোরবেলা উঠতে হবে, সব দর্শনীয় স্থান দেখতে যাবো। গাড়ি বুক করা আছে। রাতে বৌএর সাথে একটু দুষ্টুমি, খুন্সুটি করে যখন ঘুমানোর তোরজোড় করছি, সেইসময় বুকে একটা চাপ মতো ব্যাথা অনুভব করলাম। মনে হলো উর্ধবায়ু হয়েছে। কিছুতেই বিছানায় শুয়ে ঘুম আসছে না। অনেক রাত পর্যন্ত শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে জেগে ছিলাম, অঙ্গিরাকে আর ডাকিনি। কিছুক্ষণ পরে বাথরুমে গেলাম। প্রচন্ডরকম শরীর খারাপ লাগছিলো। সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে অবশ হয়ে আসছিলো। গলায় আঙুল দিয়ে অনেকটা বমি করার পর একটু সুস্থ হলাম। আস্তেধীরে বিছানায় এসে দেখি অঙ্গিরা অকাতরে ঘুমাচ্ছে। পরের দিন শরীর খুবই কমজোরি ছিলো, এবং সারাগায়ে অসম্ভব ব্যাথা। শেষপর্যন্ত ঘুরতে যাওয়া আর হলো না। অঙ্গিরার মন খারাপ হলেও বুঝতে দিলো না। আমি ঘরেই শুয়ে থাকলাম। সামান্য জ্বরও ছিলো গায়ে। দুপুরে হাল্কা চিকেন স্ট্যু খেলাম। দেখলাম কেনো জানিনা শরীরটা বেশ দূর্বল আর কাহিল লাগছে। কাঁচের জানলার বাইরে অনেক দূরের জঙ্গল আর ধূসর পাহাড়ের দিকে চেয়ে চেয়ে দুপুরে কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম জানিনা। ঘুম ভাঙলো মোবাইলের আওয়াজে। একটা অপরিচিত নম্বর। কৌতূহলবশত ধরলাম। ওদিক থেকে একজন মহিলা কথা বলে উঠলো- " ঋত্তিকবাবু চিনতে পারছেন?"
-- "কে বলুন তো?"
--"দীপ্রা বলছি, পাটুলী পার্কে দেখা.... মনে পরছে?"
--"হ্যাঁ হ্যাঁ বলুন।"বলতে বলতে লক্ষ্য করলাম অঙ্গিরা ঘরে নেই।
--"আপনাকে এতোবার সতর্ক করা স্বত্তেও ওদের ফাঁদে পা দিলেন। এখনো সময় আছে। নয়তো সামনে ভয়ানক বিপদ আপনার।"
--"আপনি যে ঠিক বলছেন তার প্রমাণ কি! উল্টো'টাও তো হতে পারে,আপনি হয়তো কোনো প্রতিশোধ বশতঃ অঙ্গিরার ক্ষতি করতে চাইছেন।"
--"ও!এবার অঙ্গিরা নাম রেখেছে, বাহ্ চমৎকার। যা ভালো মনে হয় করুন। সময় থাকতেই সাবধান করে দিলাম।" কট্ করে লাইনটা কেটে গেলো। ততক্ষণে বাইরে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। রিসর্টের বাগানে হলদে আলো জ্বলে উঠেছে। চারিদিক ভীষণ নিস্তব্ধ। ব্ল্যাংকেটের নিচে বসে অন্ধকার ঘরের মধ্যে একা,কেমন একটা যেনো লাগছে। অপরিচিত জায়গা,অচেনা পরিবেশ, অচেনা সঙ্গী। তারওপর মনের মধ্যে এইভাবে যদি কেউ সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়! ঘরের দরজা ভ্যাজানো ছিলো, এমনসময় দরজা ঠেলে অঙ্গিরা ঘরে ঢুকলো। হাতে কতোগুলো জঙ্গলের বুনোফুল। বুঝলাম কাছেপিঠেই কোথাও একা একা ঘুরছিলো, কি আর করবে বেচারি! আমাকে সুস্থ করে তোলার পেছনে ওর অনেক অবদান। এখানে একটা হোমিওপ্যাথি ছোটো ওষুধের বাক্স সাথে করে এনেছে, শুধু তাই নয়, রীতিমতো সেই ওষুধ খেয়ে আমি এখন এতোটা সুস্থ। এহেন স্ত্রীকে আমি কি করে সন্দেহের চোখে দেখি !! তারওপর সদ্য পরিণীতা।
ঘরের লাইট জ্বলে উঠলো। হাতঘড়িতে দেখলাম, মাত্র ছয়টা বাজে, এই এতোটা বড়ো শীতের রাত,কি করে কাটবে! অঙ্গিরা দেখলাম ব্যাগের মধ্যে থেকে তাসের কার্ডের মতো কি একটা বার করলো। এটাকে বলে 'উনো' মানে স্প্যানিশ ভাষায় 'এক'। অঙ্গিরার কাছ থেকে শিখে নিয়ে দুজনে খেলতে থাকলাম। ও রিসর্টের রান্নাঘর থেকে ফ্লাস্কে করে চা বানিয়ে এনেছিলো। জানে আমার বারে বারে চা খাওয়ার অভ্যেস। আরেকবার চা বিস্কুট খেতে খেতে দেখলাম খেলাটা দুজনেই বেশ জমে উঠেছে, এমনসময় আবার কালকের মতো প্রচন্ড শরীর খারাপ করতে লাগলো। দর দর করে ঘামতে থাকলাম। আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম বুকে একটা দম-চাপা প্রচন্ড কষ্ট, মুখ বেঁকে যাচ্ছে,হাত পা বেঁকে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমি কথা বলতে গিয়েও পারলাম না। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যেতে যেতে দেখলাম অঙ্গিরা মুখের ওপর ঝুঁকে পরে দেখছে। তারপর একসময় আমি অনুভব করলাম হঠাৎ করে নিজেকে ভীষণ হাল্কা লাগছে। সেই শারীরিক কষ্ট আর নেই। আমি আমার দেহ থেকে বেরিয়ে যেনো নিজের শুয়ে থাকা শরীরটাকে দেখতে পাচ্ছি। দেখলাম অঙ্গিরা কাকে যেনো ফোন করলো, একটা লম্বা মতো লোক ঘরে এসে অঙ্গিরাকে জড়িয়ে ধরলো। এ আমি কি দেখছি! এই ছেলেটাকে তো অঙ্গিরার মামাতো ভাই বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছিলো।
চারিদিকে থম্ থমে পরিবেশ। আমার মা ঘরে অজ্ঞান হয়ে আছে। বাবা পাগলের মতো কাঁদছেন। কোলকাতায় আমাদের বাড়িতে উপস্থিত আত্মীয়,স্বজন,বন্ধুবান্ধব সব শোকস্তব্ধ। একটা ছোটো টুলের ওপর আমার বাঁধানো ছবি, তাতে গাদাগুচ্ছের ফুলের মালা দেওয়া। অঙ্গিরা লোক দেখানো কান্নার অভিনয় করে যাচ্ছে বেশ ভালোই। এদিকে আমি দূর থেকে সব দেখছি। আমাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র চারমাস। একটু দেরি করেই আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম,অঙ্গিরার প্ল্যান অনুযায়ী। এখন বুঝতে পারছি, সমস্ত ব্যাংক একাউন্ট কেনো ও জয়েন্ট একাউন্টে ট্রান্সফার করে নেয়। ইস্ আমি কি বোকা! অবশ্য আমার অবর্তমানে স্ত্রী হিসেবে এম্নিতেই ও সমস্ত সম্পত্তির দাবিদার। এবার ধীরে ধীরে আমার বাবা/মা কেও মারবে আমি বুঝতে পারলাম। কিন্তু আমার কিচ্ছু করার নেই, শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া। নিজেকে যে কি অসহায় লাগছে কি বলবো। এমনসময় মনে হলো পিছন থেকে কাঁধে কেউ হাত রাখলো।
--"আরে আপনি এখানেও!!"
--"হ্যাঁ। আমি তো আগেই আপনাকে সাবধান করলাম,বিশ্বাস করে শুনলে ভালো হতো।"
--"এখন কি করা যায়?"
--"কিছুই করার নেই, দেখি অন্যকোনোভাবে আপনার বাড়ির লোকদের সতর্ক করা যায় কিনা।"
--"আজ থেকে তিন বছর আগে এভাবেই ওরা আমার ছোটো ভাইটাকে বিষ খাইয়ে মারে। তারপর আমার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। সবাই জানে আমরা দুজনেই এক্সিডেন্টে মারা গেছি। এই দেখুন"
দীপ্রা মুখের চাদর সরিয়ে নিতেই দেখলাম একটা দগ্ দগে ক্ষতবিক্ষত পোড়া সাদাটে মুখ। আতঙ্কিত হয়ে আমি মুখ ঢাকলাম।
দীপ্রা হেসে উঠে বলল-- "ভূতের আবার ভয় !! চলুন এক কাপ চা খেয়ে আসি। একটা কিছু মতলব বার করতে হবে। আসুন আসুন......।

লেখিকা দেবযানী রায় ঘটক ( কথাকলি )