শিক্ষামূলক গল্প - চেষ্টা

26th May 2020 12:34 pm শিক্ষামূলক গল্প
শিক্ষামূলক গল্প - চেষ্টা


এক লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। রাস্তার পাশেই একটা হাতি দড়ি দিয়ে বাঁধা । হাতিটাকে এই অবস্থায় দেখে লোকটা খুব অবাক হলো। কোন শিকল নেই, কোন খাঁচাও নেই। হাতিটার এক পা শুধু একটা পাতলা দড়ি দিয়ে বাঁধা । চাইলেই হাতিটা যে কোন মুহূর্তে দড়ি ছিঁড়ে চলে যেতে পারে। কিন্তু হাতিটা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। দড়ি ছিঁড়ে চলে যাচ্ছেনা বা ছেঁড়ার কোন চেষ্টাই করছেনা।
অনেকক্ষন আনমনে ভাবলো লোকটা। ঘোর কাটছেনা কিছুতেই। সুযোগ থাকার পরও হাতিটা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেনা কেন? কি এমন কারণ থাকতে পারে এর পেছনে? ঘটনাটা বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে লোকটাকে।
কিছুদূর যাওয়ার পর একজন ট্রেইনারের সাথে দেখা হলো তার । “সুযোগ থাকার পরও হাতিটা স্থির দাঁড়িয়ে আছে কেন? কেন সে দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেনা? ” অনেক আগ্রহ নিয়ে ট্রেইনারকে জিজ্ঞাসা করলো লোকটা।
লোকটার প্রশ্ন শুনে হেঁসে উঠলো ট্রেইনার। বললো “হাতিটা যখন অনেক ছোট ছিল, তখন এরকমই একটা পাতলা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো তাকে। তখন বাচ্চা হাতিটাকে বেঁধে রাখার জন্য এই ছোট দড়িটাই যথেষ্ট ছিল। তাই চেষ্টা করার পরও দড়ি ছিঁড়ে সে মুক্ত হতে পারেনি। এরপর সে বিশ্বাস করা আরম্ভ করলো তার পক্ষে এই দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাতিটা অনেক পরিনত হয়েছে, কিন্তু তার সেই বিশ্বাস এখনও আছে। সে এখনও ভাবে তার পক্ষে এই দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। তাই সে দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার কোন চেষ্টাই করেনি আর” ।
লোকটা অভিভূত হয়ে গেল! নিজেকে মুক্ত করার সুযোগ থাকার পরও হাতিটা যেখানে ছিল সেখানেই স্থির হয়ে আছে কারণ সে ভাবে তার পক্ষে মুক্ত হওয়া সম্ভব না! এমনকি সে আর চেষ্টাই করে দেখেনি!

Moral : কোন কাজে দু-একবার ব্যর্থ হয়েছি বলে আমাদের কতজন এই হাতিটার মতো “পারবনা” ভেবে জীবনকে এক জায়গাতেই ঝুলিয়ে রেখেছি? কতজন ভাবছি আমরা অক্ষম, আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না? জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা কখনো ফুরিয়ে যায়না। ব্যর্থতা শিক্ষার একটা অংশ, ব্যর্থ হয়েছি বলে কখনই চেষ্টা করা ছেড়ে দেওয়া উচিত না।





Others News

অন্ধ ঘোড়া

অন্ধ ঘোড়া


এক লোকের দুটি ঘোড়া ছিল। দূর থেকে দেখতে ঘোড়া দুটিকে প্রায় একই রকম লাগতো।

কিন্তু কেউ যদি ভাল মত দেখে তাহলে বুঝবে যে দুটি ঘোড়ার মধ্যে একটি ছিলো অন্ধ।

তাদের মালিক অনেক ভালো ছিলো। তাই সে অন্ধ ঘোড়াটিকেও অন্য ঘোড়াটির মতই যত্ন করতো। আস্তাবলে দুটি ঘোড়ার জন্যই আরামদায়ক শোয়ার যায়গার ব্যবস্থা করেছিলো সে। সকাল বেলা দুটি ঘোড়াই সামনের মাঠে ঘাস খেতে চলে যেত।

ঘোড়াদুটি যখন মাঠে ঘুরে বেড়ায় তখন কেউ যদি কান পেতে রাখে তবে সে একটা মৃদু ঘন্টার শব্দ শুনতে পাবে। এই ছোট্ট ঘন্টাটি সুস্থ ঘোড়ার গলায় বাধা ছিলো। ঘন্টার শব্দ অন্ধ ঘোড়াটিকে বুঝতে সাহায্য করতো যে তার সঙ্গী কোথায় রয়েছে।

কেউ যদি মাঠের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সে দেখতে পাবে যে সুস্থ ঘোড়াটি সব সময় অন্ধ ঘোড়াটিকে চোখে চোখে রাখছে যাতে সে হারিয়ে না যায়, অন্ধ ঘোড়াটিও মাঝে মাঝে কান খাড়া করে ঘন্টার শব্দ শুনছে এবং ধীরে ধীরে অপর ঘোড়াটির কাছে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে সবসময় এই বিশ্বাস যে তার বন্ধু তাকে কখনো ভুল পথে নিয়ে যাবে না।

সন্ধ্যায় যখন ঘন্টা বাধা ঘোড়াটি যখন বাড়িতে ফিরে আসতে থাকে তখন সে বার বার পেছনে ঘুরে তাকায়, এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, সে যেন খুব দূরে চলে না যায় যাতে অন্ধ ঘোড়াটি ঘন্টার শব্দ শুনতে না পারে। এভাবে তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসে।

****ঠিক এই অন্ধ ঘোড়াটির মত যদি আমরা নিখুত না হই অথবা আমদের কোন শারিরীক বা মানসিক সমস্যা থাকে তাহলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের কখনোই একা ছেড়ে দেন না।

তিনি আমাদের উপর সবসময় নজর রাখেন এবং আমাদের জীবনে এমন কাউকে পাঠান যাদের সাহায্যের আমাদের প্রয়োজন হয়।

কখনো আমরা সেই অন্ধ ঘোড়াটির মত, যার জীবনে সৃষ্টিকর্তা আরেকজনকে পাঠিয়ে দেন সাহায্যের জন্য। আবার কখনো আমরাই সেই ঘন্টাওয়ালা ঘোড়াটি, যে অন্য কাউকে পথ খুজে পেতে সাহায্য করে।