দোষ - গুন

28th May 2020 12:25 pm শিক্ষামূলক গল্প
দোষ - গুন


কোন একদিন এক শিক্ষক পথের ধারের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। অদুরে ৯/১০ বছরের দুটি বাচ্চা ছেলে পরস্পরের সাথে ঝগড়া করছিল। প্রথমে সামান্য কিছু কথা কাটাকাটির পর্যায়ে থাকলেও তাদের ঝগড়া এক সময় মারাত্মক রুপ লাভ করে। দুজন দুজনকে নানা অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এক সময় তারা একে অপরের পরিবার, বাবা মা এর সম্পর্কে সত্য মিথ্যা মিশিয়ে অরুচিকর কথা বলতে থাকে।
প্রথম থেকেই শিক্ষক সব খেয়াল করছিলেন।তিনি আর বসে থাকতে পারেন না। উঠে গিয়ে ছেলে দুটিকে আদর করে বুঝিয়ে তাদের ঝগড়া থামান। বাচ্চা দুটির হাত ধরে তাদেরকে তার সাথে যেতে বলেন।ছেলে দুটি প্রথমে ভয় পেলেও শিক্ষকের সুন্দর কথাতে তার সাথে যেতে রাজি হয়।তিনি ছেলে দুটিকে একটি পুকুরের ধারে নিয়ে যান।পুকুরটি তখন একদম শান্ত অবস্থায় ছিল আর পানি ছিল একদম স্বচ্ছ।তিনি পুকুরটি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেন এখানে কি দেখতে পাচ্ছ। ছেলে দুটি বলে পানি।আর কি দেখছ জানতে চাইলে বলে পানি খুব পরিস্কার, কিন্ত নিচে ময়লা জমে আছে সেটা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক জানতে চান উপরের পরিস্কার পানি দিয়ে কী মুখ ধোয়া যাবে? উত্তরে ছেলে দুটি বলে হ্যা।তিনি খুব সাবধানে পুকুরের পানি হাতে নিয়ে ছেলে দুটিকে দেখান, সেখানে কোন ময়লা ছিল না।এবার শিক্ষক একটি লাঠি নিয়ে একজনেন হাতে দেন, আর পুকুরের পানিতে ঘাটতে বলেন। এবার তিনি জানতে চান কি দেখছ। ছেলে দুটি বলে পানি নোংরা হয়ে গেছে।তিনি আর জোরে পুকুরের মাটিতে ঘাটতে বলেন, এবার কী দেখছ? তারা বলে পানি আর নোংরা হয়ে গেছে। শিক্ষক জানতে চান এ পানি দিয়ে কী মুখ ধোয়া যাবে, তারা বলে না, তাহলে মুখ নোংরা হয়ে যাবে।
এবার শিক্ষক বাচ্চা দুটিকে বলেন, পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের কিছু দোষ আর গুন থাকে। আমরা যদি দোষ না দেখে গুন গুলোকে দেখি তাহলে তা পানির প্রথম অবস্থার মতই স্বচ্ছ থাকবে।পরস্পরের প্রতি ভালবাসা জন্মাবে।বাচ্চা দুটি তাদের ভুল বুঝতে পারে।

শিক্ষাঃ অপরের নোংরা ঘাটতে গেলে তা নিজের গায়েই লাগে।





Others News

অন্ধ ঘোড়া

অন্ধ ঘোড়া


এক লোকের দুটি ঘোড়া ছিল। দূর থেকে দেখতে ঘোড়া দুটিকে প্রায় একই রকম লাগতো।

কিন্তু কেউ যদি ভাল মত দেখে তাহলে বুঝবে যে দুটি ঘোড়ার মধ্যে একটি ছিলো অন্ধ।

তাদের মালিক অনেক ভালো ছিলো। তাই সে অন্ধ ঘোড়াটিকেও অন্য ঘোড়াটির মতই যত্ন করতো। আস্তাবলে দুটি ঘোড়ার জন্যই আরামদায়ক শোয়ার যায়গার ব্যবস্থা করেছিলো সে। সকাল বেলা দুটি ঘোড়াই সামনের মাঠে ঘাস খেতে চলে যেত।

ঘোড়াদুটি যখন মাঠে ঘুরে বেড়ায় তখন কেউ যদি কান পেতে রাখে তবে সে একটা মৃদু ঘন্টার শব্দ শুনতে পাবে। এই ছোট্ট ঘন্টাটি সুস্থ ঘোড়ার গলায় বাধা ছিলো। ঘন্টার শব্দ অন্ধ ঘোড়াটিকে বুঝতে সাহায্য করতো যে তার সঙ্গী কোথায় রয়েছে।

কেউ যদি মাঠের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সে দেখতে পাবে যে সুস্থ ঘোড়াটি সব সময় অন্ধ ঘোড়াটিকে চোখে চোখে রাখছে যাতে সে হারিয়ে না যায়, অন্ধ ঘোড়াটিও মাঝে মাঝে কান খাড়া করে ঘন্টার শব্দ শুনছে এবং ধীরে ধীরে অপর ঘোড়াটির কাছে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে সবসময় এই বিশ্বাস যে তার বন্ধু তাকে কখনো ভুল পথে নিয়ে যাবে না।

সন্ধ্যায় যখন ঘন্টা বাধা ঘোড়াটি যখন বাড়িতে ফিরে আসতে থাকে তখন সে বার বার পেছনে ঘুরে তাকায়, এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, সে যেন খুব দূরে চলে না যায় যাতে অন্ধ ঘোড়াটি ঘন্টার শব্দ শুনতে না পারে। এভাবে তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসে।

****ঠিক এই অন্ধ ঘোড়াটির মত যদি আমরা নিখুত না হই অথবা আমদের কোন শারিরীক বা মানসিক সমস্যা থাকে তাহলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের কখনোই একা ছেড়ে দেন না।

তিনি আমাদের উপর সবসময় নজর রাখেন এবং আমাদের জীবনে এমন কাউকে পাঠান যাদের সাহায্যের আমাদের প্রয়োজন হয়।

কখনো আমরা সেই অন্ধ ঘোড়াটির মত, যার জীবনে সৃষ্টিকর্তা আরেকজনকে পাঠিয়ে দেন সাহায্যের জন্য। আবার কখনো আমরাই সেই ঘন্টাওয়ালা ঘোড়াটি, যে অন্য কাউকে পথ খুজে পেতে সাহায্য করে।