কবিতা - ০৪
আক্ষেপ
---- পাপিয়া মণ্ডল
****
মুঠোফোনের এক বোতাম দূরত্বে আমাদের ইগো-যাপন।
দুজনেই উন্মুখ, পরস্পরের সাড়া পাওয়ার।
প্রতিটি ফোন কলে চাই সেই বিশেষ নাম্বার ভেসে উঠুক।
প্রতিটি নোটিফিকেশনে অপেক্ষা সেই কাঙ্খিত মেসেজের।
গঙ্গায় অনেক জল গড়িয়ে যায়,
হিমালয়ের বরফ গলে,
শীত,গ্রীষ্ম, বর্ষা পেরোয়।
আমাদের ইগোর পাহাড় ধীরে ধীরে উঁচু হয়।
দলা পাকানো অভিমানগুলো,
গলার কাছে এসে আরো গাঢ় হয়।
বহুবার চেষ্টা করেও, বোতামটুকু টিপতে পারি না।
জীবনসায়াহ্নে এসে, মৃত্যুর সাথে দূরত্ব কমে।
অপেক্ষায় থাকি যখন-তখন আলিঙ্গনের।
হঠাৎই সম্বিত ফেরে...
"কি পেলাম, ইগো ধরে রেখে?
শুধু শুধু, সম্পর্কগুলোকে খুন করেছি।
একা হতে হতে, এতটাই একা হয়েছি,
শেষযাত্রায় চারটে কাঁধেরও অভাব হবে হয়তো!"
*******

পাপিয়া মণ্ডল
মানুষ হিসেবে একেবারেই সরল, সাধাসিধে, ইংরাজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, বোলপুর নিবাসী কবি পাপিয়া মণ্ডল। জন্ম বীরভূমের সদর শহর সিউড়িতে। শিক্ষক বাবার কন্যা হওয়ার সুবাদে ছোটো থেকেই বিভিন্ন সাহিত্য সভায় যোগদান। আর ছিল, রোজ বাবার কোলে বসে গল্প শোনার অভ্যাস। সেই থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। বিভিন্ন ধরনের সেলাই, হস্তশিল্প আর ফেব্রিক দিয়ে জামাকাপড় বা পট,টবে আঁকিবুকি করা তাঁর শখ। গান আর কবিতা আবৃত্তিতেও তিনি সাবলীল। স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন আর ম্যাগাজিনে লেখা, তাঁর প্রতিভাকে ধীরে ধীরে বিকশিত করে। টুকটাক কবিতা লেখার একটি ডাইরিও ছিল তখন।
২০০২ সালে বিয়ের পর থেকেই সংসার সমুদ্রে ডুব।
তারপর দীর্ঘ বিরতি। ২০১১-২০১৬ বীরভূম আবৃত্তি অ্যাকাডেমি থেকে আবৃত্তি ভাস্বর কোর্স কমপ্লিট করেন। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করেন নিজের মনের কথাগুলোকে ডাইরির পাতায় লিপিবদ্ধ করতে। কখনো গল্প আকারে আবার কখনোও বা কবিতার মধ্যে দিয়ে নিজস্ব চেতনার প্রকাশ ঘটান। এরপর সেগুলো দু/একটা পোস্ট করতে থাকেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। স্বামী, ছেলে, আত্মীয়পরিজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের কাছে উৎসাহ পেয়ে বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনে লেখা পাঠান। খুবই সমাদৃত হয় তাঁর লেখা পাঠকমহলে। একেবারে সহজ,সরল,সাবলীল ভাষার লেখাগুলি খুব সহজেই পাঠক হৃদয়কে ছুঁয়ে ফেলে। এখন বিভিন্ন পত্রিকার নিয়মিত লেখিকা তিনি।
এছাড়াও ২০১৯ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় "বার্তা প্রকাশন " থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একক গল্পগ্রন্থ "কালো মেয়ের উপাখ্যান।"
তারপর কর্পোরেট পাবলিসিটি থেকে প্রকাশিত হয় আরও একটি গল্পগ্রন্থ "আত্মাভিমানী" আর কাব্যগ্রন্থ "পাঁচমিশেলি আবেগ। "
বইগুলি পাঠক সমাজে খুবই সমাদৃত।