মুক্ত মনের মানুষ সন্ত কবীর

1st July 2020 1:12 pm প্রবন্ধ
মুক্ত মনের মানুষ সন্ত কবীর


প্ৰবন্ধ :- "মুক্ত মনের মানুষ সন্ত কবীর"
লেখক :- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
*****
বিশুদ্ধ চেতনাহীন অথবা ধর্মের মূল শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে ভ্রান্ত মতবাদের শিকার হয়ে মানুষ যখন দিশেহারা, নিজধর্ম পালন অথবা রক্ষা করতে অক্ষম বা ভয়ভীত এবং বিশ্বে চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার। শক্তিশালী শাসকের বল প্রয়োগে বাধ্য হচ্ছে নিজধর্ম থেকে অন্য ধর্মকে অবলম্বন করতে। আবার সমাজের কিছু প্রভাবশালী ধার্মিক সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী নিজ নিজ স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে ধর্মের আড়ালে ধর্মকে বিকৃত করে নিজ ইচ্ছানুসার ধর্মের পরিভাষা তৈরী করে কুরীতির প্রচার করে সমাজকে ধর্মের উদার নীতির থেকে দূরে সরিয়ে সমাজের নিম্ন অথবা অশিক্ষিত দূর্বল শ্রেণীর মানুষকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন করে চালাচ্ছিল স্বার্থ সিদ্ধির মায়াজাল। অমানবিক অত্যাচারে সমাজ কলুষিত! ! মানুষ বিভ্রান্ত। প্রার্থনা করছে অহরহ ত্রাহিমাম ত্রাহিমাম ! ইতিহাসে দেখা গেছে বিশ্বে যখন এইরকম পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, ঠিক সেই সময়ই কোন না কোন একজন সমাজ সংস্কারক অথবা মহাপুরুষের অকস্মাৎ আবির্ভাব ঘটে। এটা আশ্চর্য জনক সত্যি ! আবার এটাও দ্রষ্টব্য যে এনাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন স্বল্প শিক্ষিত ! অথচ এনারাই করেছেন সমাজসংস্কার ! সকল ধর্মের কঠিন কঠিন দার্শনিক মতবাদের সরলতম ব্যাখা করে সাধারন মানুষকে দেখিয়েছেন ধর্মের সহজ সরল সঠিক কল্যাণকারী পথ। করেছেন মানুষের সঠিক মূল্যায়ণ।
মানুষ পেয়েছে কুসংস্কারের গোগ্রাস থেকে মুক্তি, বিশেষ করে হিন্দু - মুসলমান এই দুই ধর্মের প্রবলতম প্রতিদ্বন্দিতা থেকে। ভয়মুক্ত সমাজে এসেছে শান্তি এবং সদভাবনা।
পূর্ব সং.১৪৫০ এর আসপাশ সম্পূর্ণ ভারতে চলছিল ধর্মীয় অরাজকতা। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল সামাজিক প্রথা। কলুষিত অন্ধবিচার ব্যবস্থা। ত্রাসিত দিশাহীন মানুষ ! সেইসময় বহুবিতর্ক নিয়ে আবির্ভুত হলেন এক মহাপুরুষ "সন্ত কবীর"। যাঁর জন্মকাল, জাতি, ধর্ম এবং মাতা- পিতার পরিচয় সহিত ওনার জীবনের সমস্ত ঘটনাতেই আছে বিতর্ক এবং ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ।
সর্বমোট ওনার জন্ম ইং ১৩৯৮সালে, মতান্তরে ( সং ১৪৫১ থেকে সং.১৪৫৫ এর মধ্যে)। জন্মস্থান কাশীর লহরতারা দীঘি বা লহর তালাব। কারও কারও মতে জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোর থেকেও উজ্জ্বল আলোর বন্যায় পদ্ম ফুলের মাঝে ওনার আবির্ভাব হয়।
আবারও সেই বিতর্ক ! অনেকের মতানুযায়ি ,
রামানন্দ স্বামীর ভুলবশতঃ দেওয়া আশীর্বাদের ফলস্বরূপ এক বিধবা ব্রাহ্মণীর গর্ভজাত সন্তানই কবীর এবং সেই ব্রাহ্মণী সামাজিক কলঙ্ক থেকে বাঁচার জন্য সেই সদ্যজাত শিশুটিকে লহর তালাব বা লহরতারা দীঘির পাড়ে গোপনে পরিত্যাগ করে আসেন। সেই পরিত্যক্ত শিশুই সন্ত কবীরদাস।
আবারও সেই বিতর্ক ! অনেকের মতে কবীর দাস জাতে জুলাহ নীমা এবং মাতা নীরুর সন্তান। এখন প্রশ্ন, তাহলে কবীরদাস, হিন্দু না মুসলমান !
আবার একথাও প্রচলিত আছে , যখন নীমা এবং নীরুর বিয়ের পর নীমা নীরুকে নিয়ে নিজের বাসস্থানে ফেরৎ আসছিলেন তখন পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রামের জন্য লহরতাল দীঘি বা লহর তালাবের পাড়ে বসেন। কিছুক্ষণ পরে নীরুদেবীর কানে এক নবজাত শিশুর কান্নার আওয়াজ আসে এবং উনি শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বামী নীমার কাছে নিয়ে এলেন এবং সঙ্গে নিয়ে যাবার প্রস্তাব করলেন। উদার মনের মালিক নীমা, নীরুদেবীর প্রস্তাবে রাজী হলেন। ওনারা শিশুটিকে ছাগলের দুধ খাইয়ে লালন পালন করতে লাগলেন।
শিশুটির নামকরণ নিয়েও বিতর্ক, উচ্চ সম্প্রদায়ের বিরোধ। শিশুটির নাম নীমা এবং নীরু "কবীর" কেন রাখল ? এই নিয়ে। ওরাতো জোল্হা ! নীচু জাতের , এদের বাচ্চার এধরনের নামকরণ করার কোন অধিকার নেই। কিন্তু , নীমা এবং নীরু কারুরই কথা না শুনে শিশুর নাম কবীর ই রাখলেন। পরে সন্ত কবীর দাস নিজেই বলেছেন :-
" জাতি জুলাহা নাম কবীরা
বনি বনি ফিরো উদাসী॥ "
সেই সময় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন স্বামী রামানন্দ , পরম রাম ভক্ত। যুবক কবিরের স্বামী রামানন্দের মতবাদের উপর ছিল অপার আস্থা, মনে মনে ওনাকেই গুরু মেনে নিয়ে দীক্ষা নেবার জন্য স্বামী রামানন্দের কাছে গেলেন। কিন্তু, স্বামী রামানন্দ কবীর জোল্হা, মুসলমানের সন্তান বলে কবীরের সঙ্গে দেখাই করলেন না। কবীর কিন্তু নাছোড়বান্দা ! একদিন কবীর পঞ্চগঙ্গা ঘাটের সিঁড়িতে শুয়ে পড়ে রইলেন , ওই ঘাটেই রোজ স্বামী রামানন্দ স্নান করতে আসেন। সেদিনও এলেন। ঘাটে নামবার সময় উনি না দেখতে পেয়ে কবীরের গায়ে ওনার পা লেগে গেলে উনি ঘৃণা বশত "রাম রাম" বলে উঠলেন ! কবীরের কাছে এই শব্দই হয়ে গেল গুরুমন্ত্র। সেইদিন থেকেই কবীরদাস রাম নাম মন্ত্র জপ করতে লাগলেন। সর্বদা বলতেন -
" হম কাশী মে প্রকট ভয়ে হ্যয়,রামানন্দ চেতায়ে"॥
গুরু ভক্ত কবীর বলতেন :-
"সব ধরতী কাগজ করু, লেখনী বনরাজ।
সাত সমুদ্র কী মসী করু, গুরু গুণ লিখা ন যায় ॥
ইহ তন বিষ কী বেলরী, গুরু অমরিত কী খান ।
শীশ দিয়ো জো গুরু মিলে , তো ভী সস্তা জান "॥
অর্থাৎ , যদি সম্পূর্ণ পৃথিবীকে কাগজ আর সমস্ত বনের বৃক্ষ কে কলম , সাত সমুদ্রকে দোয়াত বানাই তবুও গুরুর গুণ গান কখনও লিখে শেষ করা যায় না। এই শরীর বিষের ভান্ড , গুরু অমৃতের খনি।
মাথা বলি দিয়েও যদি গুরু পাওয়া যায় ,তবুও জীবনের দাম সস্তা।।
সন্ত কবীরের সাংসারিক বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অনেক বিতর্ক ! অনেকের মতে কবীর বিবাহিত ছিলেন। ওনার পুত্রের নাম কমল এবং পুত্রীর নাম কমলী। কবীর সংসারী ছিলেন এবং নিজের পৈত্রিক ব্যবসা তন্তুবায় অথবা তাঁতির কর্ম করেই সংসার প্রতিপালন করতেন। কিন্তু, কবীরপন্থীরা বলেন - কবীর ব্রহ্মচারী ,সন্ত। ওনাদের মতে "কমল" এবং "কমলী" কবীরের পুত্র বা পুত্রী নয়। কমল বা কামাথ্য ওনার শিষ্য এবং কমলী বা লোই (কম্বলকেও লোই বলা হয়) ওনার শিষ্যা। কবীর বলতেন -
" কহত কবীর সুনহু লোই,
হরি বিন রাখন হার ন কোই" ॥
অর্থাৎ :- বলে কবীর শোন রে লোই
হরি বিনা রক্ষাকর্তা নেই কেউ ।।
শান্তিপ্রিয়,কুসংস্কার মুক্ত, মানবপ্রেমী, সত্যাশ্রয়ী, অহিংসাপন্থী উদারমনা সন্ত কবীরদাস, নিজের ব্যবসায় ছেড়ে দিন রাত রামনামে হরিনামে মগ্ন থাকতেন এবং সমাজের কল্যাণে জাত পাত, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের নামে কুপ্রথা, কুরীতি, আচার অনুষ্ঠাণ থেকে মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার গঠনের উদ্দেশ্যে দোহার মাধ্যমে উপদেশ দিতেন। সন্ত কবীরের সুনাম, যশ,কীর্তির প্রচার প্রসার দিনদিন বাড়তে থাকায় এবং ভক্তের সংখ্যা প্রচুর মাত্রায় বৃদ্ধি হওয়াটা ওনার পছন্দ ছিল না। সেই জন্য উনি বহু দেশ ঘুরে শেষ জীবন মগহরে(পরিত্যক্ত অশুদ্ধস্থান) থাকার জন্যে বেছে নিলেন। সন্ত কবীর বলতেন :-
" সকল জনম শিবপুরি গবায়া।
মরতী বার মগহর উঠি আয়া"॥
অর্থাৎ - সারা জীবন শিবপুরী তে কাটিয়ে ,
মৃত্যুর সময় মগহরে এলাম উঠে ।।
এতেও সেই বিতর্ক ! কেউ বলেন শত্রুদের শত্রুতায় অতিষ্ঠ হয়ে উনি কাশীধাম পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আবার কারুর কারুর মতে কুসংস্কার এবং ভ্রান্ত ধারনামুক্ত সন্ত কবীর এটাই দেখাতে চেয়েছিলেন যে কাশীতে দেহত্যাগ করলে স্বর্গ প্রাপ্তী হয় আর মগহরে দেহত্যাগ করলে নাকি নরক প্রাপ্তী হয় ,এটা ভূল ধারনা।
কুসংস্কার মুক্ত সন্ত কবীর হিন্দু - মুসলমান দুই ধর্মেরই প্রচলিত কুপ্রথা বা আচার সম্বন্ধে বলেছেন -
"হিন্দু বরত একাদশী সাধে দুধ সিঙ্গারা সেতী।
অন্ন কো ত্যাগে মন কো হঠকে
পারণ করে সগোউতী ॥
দিন কো রোজা রহত হ্যয়,
রাতি হনন গায়।
যহা খুন বৈ বন্দগী
ক্যিউ কর খুশী খোদায়॥"
শুদ্ধমনের মুক্ত বিচার, দিয়ে যদি অন্তর আত্মাকে শুদ্ধতার দিকে ফেরান না যায় ,তবে যুগ যুগ ধরে মালা জপ করলেও মুক্তি হবে না, হরির দর্শণ হবে না। কত বড় উচ্চ বিচার ! বলেছেন :-
"মালা ফেরত যুগ গয়া ফিরা ন
মন কা ফের
কর কা মনকা ছোড় দে
মন কা মন ফের।
মন কা মনকা ফের ধ্রুব নে ফেরীমালা ধরে চতুর্ভুজ রূপ মিলা
হরি মুরলী বালা॥
কহতে দাস কবীর মালা
প্রলাদ নে ফেরো।
ধর নরসিংহ কা রূপ
বচায়া অপনা চেরো॥"
সন্ত কবীরের মরণোত্তর ঘটনা ও চমৎকারপূর্ণ ! সন ১৫১৮ সালে প্রায় ১২০ বছরের আয়ুতে মগহরে সন্ত কবীর দেহত্যাগ করেন। নিজে যে রকম নিরাকার সদগুণ পরম ব্রহ্মে বিশ্বাস করতেন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ জীবন যাপন করতেন , সেরকম তাঁর দেহত্যাগের পর হিন্দু এবং মুসলমান ভক্তরা বিবাদ গ্রস্থ এই নিয়ে কি সন্ত কবীরের নশ্বর দেহকে কবর দেওয়া হবে কি দাহ করা হবে ? ঠিক তখনই চাদরে ঢাকা সন্ত কবীরের নশ্বর শরীর ফুলে পরিনত হয়ে উভয় পক্ষের বিবাদ মিটিয়ে দিলেন। আশ্চর্য্য জনক ঘটনা। তাই উনি বলতেন :-
" না নারদ তব রোই পুকারা
এক জুলাহে সোউ ম্যায় হারা।
প্রেম তন্তু নিত তানা তনাই ,
জপ তপ সাধি সৈকরা ভরাই॥ "
মহান সন্ত কবীরদাসের আবির্ভাব তিথীতে জানাই আমার শত কোটি প্রণাম॥
জয়তুঃ সন্ত কবীর দাস॥





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     নির্ভিক সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - ১৮ সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।