আমার বন্ধু --- তারিফ আলম

6th July 2020 8:56 pm তারিফ আলম
আমার বন্ধু --- তারিফ আলম


আমার বন্ধু

লেখা - তারিফ আলম

 

আমাদের গ্রামের নাম কসবা আসন্দা । যখন ছোট ছিলাম তখন গ্রামের বাড়ীতে থাকতাম । তখন গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র ছিল । গ্রামের রাস্তাঘাট মাটির , বৃষ্টি হলেই এক হাঁটু কাদা । তখন গ্রামে বিদ্যুতের আলো না থাকায় গ্রামের মানুষজন রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই খাওয়া – দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়তো । আমি রেডিওতে রাত ৭ টার নাটক শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম । আর ভোর থেকে উঠে চলে আসতাম নল দিঘির ( বড় জলাশয় ) পাশের মাঠে । সেখানে আগে থেকেই অনেক বন্ধু উপস্থিত হত । ফরিদ , মুস্তাক , ভোলা , হাফিজুল , মুরতেজা আরও অনেক বন্ধু মিলে ফুটবল , ক্রিকেট , মারবেল , কাবাডি , ডাং গুলি আরও বিভিন্ন খেলায় লিপ্ত হয়ে পড়তাম । আবার সকাল ৮ টার দিকে সবাই বাড়ী গিয়ে পান্তাভাত খেয়ে আবার নল দিঘির মাঠে এসে উপস্থিত হতাম । খেলা চলত দুপুর পর্যন্ত । খেলে খেলে ক্লান্ত হয়ে শেষে নল দিঘির জলে স্নান করতে নামতাম দল বেঁধে । জলের মধ্যেও খেলা চলতো । প্রায় ঘণ্টাখানেক জলে স্নান করার পর সকলে জল থেকে উঠে যে যার বাড়ীতে চলে যেতাম মধ্যাহ্ন ভোজনের জন্য । তারপর খাওয়া – দাওয়া শেষ করে আবার ফিরে আসতাম নল দিঘির মাঠে । আমি লক্ষ্য করতাম , দুপুরের স্নান সেরে সকলে বাড়ীতে খাওয়ার জন্য চলে গেলও একজন বন্ধু হাসান ( নাম পরিবর্তিত ) যেত না । সে সেই নল দিঘির পাড়ে নিম গাছ গুলোর তলায় বসে থাকতো । আমরা সকলে দুপুরের খাওয়া সেরে ফিরে এলে সে আমাদের সাথে খেলায় যোগ দিত ।
একদিন দুপুরে স্নান সেরে সকলে যখন বাড়ী ফিরছিল তখন হাসানকে একটা নিম গাছের তলায় বসে থাকতে দেখে তার পাশে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “ হাসান , তুই ভাত খেতে যাবি না” ?
সে মাথা নেড়ে “না” বলল ।
“কেন যাবি না খেতে ? তোর কি খিদে নেই”?
আমার প্রশ্ন শুনে খুব করুন দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে বলল –“ সকালে বাবার সাথে পান্তাভাত খেয়েছি । বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছেন । বাড়ী সন্ধ্যায় ফিরবেন । তখন বাবার সাথে খাবো । এখন বাড়ী গিয়ে মাকে ভাত খেতে চাইলে মা লাঠি দিয়ে মারবেন “। কথা গুলো বলতে বলতে সে কেঁদে ফেলল ।
আমি জানি ছোটবেলায় হাসানের মা মারা যান । তার বাবা আবার নতুন বিয়ে করেন । নতুন মা হাসানকে একদম দেখতে পারে না । অনেক সময় লাঠি দিয়ে হাসানকে পেটাতে দেখেছি তার সতীন মাকে । তখন হাসান এর বয়স ৬-৭ হবে । আমরা প্রায় সমবয়সী । হাসানের মা যে তাকে দুপুরে খেতে দেয় না তা জানতে পেরে খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার । সে দিন দুপুরে ভাত খেতে বসে সব সময় হাসানের অশ্রুসিক্ত চোখ দুটো ভেসে উঠছিল আমার চোখের সামনে । নিজে খাওয়া শেষ করে দ্রুত ছাদের রুমে গিয়ে মুড়ির ডিবা থেকে মুঠোভর্তি করে মুড়ি নিয়ে নিজের হাপপ্যান্টের দু পকেট ভর্তি করে নিলাম । তারপর নিলাম চট গুড়ের একটা বড় টুকরো । তারপর চুপি চুপি চলে এলাম নল দিঘির মাঠের ধারে যেখানে হাসান বসেছিল একা । পাশে গিয়ে বসে পড়ে নিজের পকেট থেকে মুড়ি আর চট গুড় বের করে তার হাতে দিয়ে বললাম – “এগুলো খেয়ে নে “।
মুড়ি গুলো দেখে আনন্দে হাসান খাওয়া শুরু করে দিল । আমি পাশে চুপচাপ বসে আমার প্রিয় বন্ধুটার খাওয়া দেখছিলাম । খাওয়া শেষে তার মুখের হাসি টা আমার মনে এক আলাদা অনুভুতির সৃষ্টি করতো ,এক আলাদা আনন্দ । এই ভাবে আমি রোজ তার জন্য মুড়ি আর গুড় বাড়ী থেকে নিয়ে আসতে লাগলাম । সেও আমার আসার পথ চেয়ে বসে থাকতো নল দিঘির মাঠের ধারে নিম গাছের তলায় ।
একদিন খাওয়া শেষে ছদের রুমে গিয়ে মুড়ির ডিবাতে গিয়ে দেখলাম মুড়ি নেই । আমি নীচে মায়ের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলাম – “ মা , মুড়ি কি শেষ হয়ে গিয়েছে “?
“ হ্যাঁ , বিকালে তোর আব্বা স্কুল থেকে ফেরার সময় নিয়ে আসবেন মুড়ি “।
আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম – “একটুও কি নেই “?
এবার মা অবাক হয়ে আমকে জিজ্ঞাসা করলেন –“এখুনি তো ভাত খেলি , আবার মুড়ি এখনি খেতে হবে কেন “?
আমি মায়ের প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে নল দিঘির মাঠে চলে এলাম । আমাকে দূর থেকে আসতে দেখে হাসান জলে হাত ধুয়ে এল । ও মনে করেছিল প্রতিদিনের মত আজও আমি তারজন্য মুড়ি গুড় নিয়ে এসেছি । কিন্তু আমি যখন তার পাশে গিয়ে বললাম যে , আজ বাড়ীতে মুড়ি নেই , তাই তারজন্য আনতে পারি নি । তখন তার মুখটা একদম শুকনো হয়ে গেল । আমি তার গায়ে হাত দিতেই সে মাথা নিচু করে নীল । আমি হাত দিয়ে তার মুখটা তুলে ধরতেই দেখলাম তার চোখে জল । সে কাঁদছিল । আমারও খুব কষ্ট হতে লাগলো তারজন্য খাওয়ার না আনতে পারার কারনে ।
চিন্তা করতে লাগলাম কি করে আমার বন্ধুর মুখে হাসি ফিরিয়ে আনবো । হটাত মনে হল আমাদের দিঘির পশ্চিম পাড়ে কবরস্থান । আর তারপরেই ধিরেন মণ্ডলের বাগান । সেই বাগানে সবজির সাথে সাথে শসাও চাষ করেছে । কয়েকদিন আগে ওদিকে খেলতে গিয়ে দেখেছিলাম শসা অনেক ফলেছে । কিন্তু তার বাগানের চারিদিকে কাঁটার বেড়া দেওয়া । আর ধিরেন বুড়ো সবসময় লাঠি হাতে পাহারা দেয় । তাই তার বাগানে শসা চুরি করা প্রায় অসম্ভব ছিল ।
তবুও আমি হাসানকে সঙ্গে নিয়ে দিঘির পাড় ধরে চলতে চলতে গিয়ে পৌঁছলাম কবরস্থানে ।তাকে জানালাম যে আমি বাগানের মধ্যে ঢুকবো শসা চুরি করার জন্য । সে অবাক হয়ে বলল – “অসম্ভব , অত উঁচু কাঁটার বেড়া টপকাবি কি ভাবে “?
আমি বললাম –“তুই বেড়ার ধারে হামাগুরি দে । আমি তোর পিঠের উপরে পা দিয়ে বেড়া টপকাবো “।
যেমন বললাম তেমনি করলো হাসান । সে হামাগুরি দিতেই আমি তার পিঠের উপরে পা দিয়ে কোন রকমে বেড়ার উপরে উঠলাম । তারপর লাফ দিলাম বাগানের মধ্যে । পায়ে খুব আঘাত লাগলো । কিন্তু সে দিকে নজর নেই । শুধু আমার বন্ধুর ক্ষুধা নিবারন করাই আমার মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল । দ্রুততার সাথে ৪-৫ টা শসা পেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে দিলাম বাইরে হাসানের কাছে । হাসান সে গুলো কুড়িয়ে নিয়ে নিজের ছেঁড়া জামা খুলে তাতে বেঁধে নিল । এমন সময় ধিরেন বুড়ো দূর থেকে চিৎকার করতে করতে আসছে “ কে চোর আমার বাগানে ঢুকেছেরে , দাড়া ,ধরি একবার , পিটিয়ে পিঠের ছাল ছিরে নেব “।
ধিরেন বুড়োকে লাঠি হাতে বাগানের দিকে আসতে দেখে আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম । কিন্তু বেড়া অনেক উঁচু ছিল । তখন মাত্র ৬ বছরের বালক আমি , উচ্চতাও খুব কম ছিল । বাগানে প্রবেশের সময় হাসানের সাহায্যে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও বের হতে পারছিলাম না । এদিকে ধিরেন বুড়ো বাগানের অনেক পাশে এসে পড়েছে । আমি দু তিনটে পাথরের টুকরো এনে এক যায়গায় জড় করে একটু উঁচু করলাম । তারপর কাঁটা বেড়ার মধ্যেই পা দিয়ে উঠে পড়লাম উপরে । তারপর বাইরে মারলাম লাফ । ততক্ষণে ধিরেন বুড়ো একদম পাশে চলে এসেছিল । কিন্তু আমাকে ধরতে পারলো না । আমরা দুজনে শসা গুলো নিয়ে ছুটে চলে এলাম আমাদের মাঠের পাশে নিম গাছের নীচে । তারপর হাসানকে শসা গুলো খেতে বললাম । সে হাসি মুখে আমার দিকে একবার চাইল । তারপর খেতে লাগলো । তার সেই হাসিটা আমার মনের মধ্যে এক অজানা আনন্দ অনুভুতি সৃষ্টি করল । বেড়ার কাঁটার আঘাতে আমার হাতে – পায়ে কোন কোন অংশ কেটে গিয়ে রক্ত বের হছিল । সে সব কষ্ট দূর হয়ে গিয়েছিল হাসানের মুখের হাসি দেখে । আমি শুধু তাকিয়ে থেকে তার তৃপ্তি ভরে খাওয়া দেখছিলাম ।
সে দিন সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরতেই বাবা একদম রেগে ছিলেন । মাস্টারের ছেলে শসা চুরি করেছে বলে ধিরেন বুড়ো গ্রামের কিছু লোককে বলেছিল । তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাবাকে বলে দিয়েছিল যখন বাবা স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলেন । বাবা এক চড় মেরে বলেছিলেন – “ তোর খাওয়া – পরার কোন অভাব রাখি নি , তবুও কেন তুই লোকের বাগানে শসা চুরি করতে গিয়েছিলি “?
আমি বাবার হাতে মার খেয়ে শুধু কেঁদেছিলাম । কিন্তু বাবার প্রশ্নের কোন উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি নি সেদিন । কারন আমার ক্ষুধার্ত বন্ধুর কষ্ট টা যে আমার কষ্ট থেকে অনেক বেশি ছিল ।

 





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?