অন্যজন --- তারিফ আলম

6th July 2020 9:11 pm তারিফ আলম
অন্যজন --- তারিফ আলম


পকেটের মোবাইলে ম্যাসেজ টা আসার আওয়াজ কানে যেতেই ফরিদ মোবাইল টা বের করে ম্যাসেজ টা দেখল , সামিনারই ম্যাসেজ । লেখা ছিল “ আমার সাথে আর কোন দিন যোগাযোগ করার চেষ্টা করো না , আমার বাড়ীর লোক একজন স্কুল শিক্ষকের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করছে । তোমাকে অনেক সময় দিয়েছি , কিন্তু তুমি যেহেতু চাকরি পেলে না তাই আমি আমার বাড়ীর দেখা ছেলেকেই বিয়ে করছি “।
ম্যাসেজ টা পড়ে ফরিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মোবাইল টা সুইচ অফ করে পকেটের মধ্যে রাখল । বাসের পিছনের দিকে একটা সিটে বসেছিল সে । হাতে একটা স্কুল এস আই পরীক্ষার বই । আসলে আজ তার স্কুল সাব ইন্সপেক্টর এর পদের জন্য পরীক্ষার দিন । মেদিনীপুর টাউন স্কুলে তার সিট পড়েছে । পরীক্ষার টেনশন তো ছিল তার উপরে সামিনার ম্যাসেজ টা মন খারাপ করে দিল ফরিদের । এক বছরের বেশি সময় ধরে সামিনা সুলতানার সাথে ফরিদের ভালোবাসার সম্পর্ক । সারা সময় তারা নিজেদের ভালোবাসায় মশগুল থাকতো । একে অপরকে সারা সময় হোয়াটসআপ ,ম্যাসেঞ্জারে SMS করতো , তারা সারা সময় কি করত , কি খেত - সব কিছুই একে অপরকে বলতো । আর সুযোগ পেলেই ফোনে হাজারো কথায় ফুলঝুরি , নিজেদের ভালোবাসার সংসার গড়ার কল্পনায় বিভোর হয়ে যেত ।
কিন্তু হটাত করে সামিনার মধ্যে পরিবর্তন দেখা দিল । সে ফোন করা , sms করা প্রায় বন্ধ করে দিল । ফরিদ ফোন করলেও রিসিভ করতো না , বিভিন্ন অজুহাত দেখাত । ফরিদের খুব কষ্ট হত , কিন্তু সে সামিনাকে কিছুই বলতো না , কারন সে তাকে অনেক ভালোবাসতো । আর আজকের সামিনার করা sms টা পড়ার পর মনটা কেঁদে উঠলো , মনে হল যেন দেহ থেকে তার প্রান টা কেউ কেড়ে নিল । কষ্টে ফরিদের দু চোখ দিয়ে জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকলো হাতে থাকা বই এর উপর । এমন সময় বাসটা মেদিনীপুর বাস স্ট্যান্ড এ এসে থামল । ফরিদ ডান হাত দিয়ে নিজের চোখের অশ্রু মুছে নিয়ে বাস থেকে নেমে একটা টোটো ধরে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পৌছল । এত দিন যা পড়ে এসেছে সব কিছু যেন চোখের জলে আবছা হয়ে যেতে লাগলো আর সামিনার মুখ টা ভেসে উঠলো । নিজেকে সংযত করে ফরিদ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করল । বহু ছেলে – মেয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছে । ফরিদ চুপচাপ গিয়ে রোল নাম্বার দেখে নিজের সিটে গিয়ে বসলো । একটু পরেই দু জন শিক্ষক প্রশ্নপত্র ও খাতা নিয়ে প্রবেশ করলেন । তাদের মধ্যে একজনকে দেখে ফরিদ খুব অবাক হয়ে গেল । তার কলেজের বন্ধু মুস্তাক খান । পড়াশুনায় তেমন ভালো ছিল না । বেশির ভাগ সময়ই কলেজের মেয়েদের পিছনে ঘুরে বেড়াত ।কয়েকবার মেয়েদের হাতে মারও খেয়েছে ।
যাই হোক , ফরিদ কিছু না বলে চুপ থাকলো । মুস্তাকও খাতা দেওয়ার সময় ফরিদকে দেখে একটু হাসল। পরীক্ষা শেষ হলে ফরিদ যখন খাতা জমা নিয়ে চলে আসছিল , তখন মুস্তাক ফরিদকে ডেকে বলল “ বন্ধু তুই একটু গেটের বাইরে দাঁড়াবি , অনেক দিন পর দেখা । একটু গল্প করবো “।
ফরিদ কিছু না বলে শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বেরিয়ে এল । নিজের ব্যাগ টা নিয়ে গেটের বাইরে এসে একটা পান দোকানের পাশে দাঁড়াল ।
কিছুক্ষন পরে মুস্তাক বেরিয়ে এল । ফরিদের কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো , “কেমন আছিস বন্ধু , কি করছিস বল, চাকরি পেলি “?
ফরিদ শান্ত স্বরে জানাল – “চাকরি পাই নি , চেষ্টা করছি । এখন টিউশন করি “।
মুস্তাক ফরিদের পীঠ চাপড়ে বলে ,’ চিন্তা করিস না পেয়ে যাবি । চল ঐ দোকানে গিয়ে বসি আয় “ – এই বলে মুস্তাক ফরিদের হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে একটা খাবার দোকানে প্রবেশ করলো । দু জনে বসেছে চেয়ারে এমন সময় মুস্তাকের মোবাইল টা বেজে উঠলো । মুস্তাক রিসিভ করতেই একটি নারী কণ্ঠ । জিজ্ঞাসা করছিল স্কুল থেকে বেরিয়ে কিছু খেয়েছে কিনা মুস্তাক । মুস্তাক মৃদু স্বরে বলল ,”ডার্লিং এই মাত্র স্কুল এর ডিউটি শেষ করে খেতে বসেছি । পরে কথা বলবো। এখন রাখো “।
ওপাশ থেকে মেয়েটি বলল- “ বাড়ী ফিরে ফোন করবে”।
মুস্তাক “হ্যাঁ” বলে ফোনটা রেখে দিল ।
ফরিদ শান্ত স্বরে জিজ্ঞাসা করলো – “ তোর wife ফোন করেছিল “?
“না , আমার গার্লফ্রেন্ড “। এই বলে মুস্তাক চাউমিন এর অর্ডার দিল ।
আবার মুস্তাকের ফোন বেজে উঠলো । ফোন রিসিভ করতে এবারে অন্য একজন মেয়ের গলা । সেও একি কথা জিজ্ঞাসা করছিল মুস্তাক ডিউটি শেষ করে খাবার খেয়েছে কিনা । মুস্তাকের উত্তরও একি ছিল । সেই মেয়টিকেও বলল বাড়ী ফিরে তাকে ফোন করতে ।
এবারে ফরিদ একটু বিস্ময় প্রকাশ করে মুস্তাক কে জিজ্ঞাসা করলো – “ এই মেয়েটি আবার কে”?
মুস্তাক মৃদু হেসে উত্তর দিল –“এটাও আমার গার্লফ্রেন্ড “?
“তোর আর কটা গার্লফ্রেন্ড আছে রে ভাই “?
ফরিদের প্রশ্ন শুনে মুস্তাক হাতে গুনে বলল “সাতটা”।
ফরিদ খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো –‘এত গুলো গার্লফ্রেন্ড কি করে বানালি ‘?
“আমাকে বানাতে হয় নি , ওদের বাড়ীর লোক নিজেরাই দিয়ে যাচ্ছে “।
ফরিদ এবার রাগ দেখিয়ে বলল , “ দূর , ফালতু কথা বলার জায়গা পাশ নি “?
এবার মুস্তাক হেসে বলল ,” আরে আমার কথা টা তো পুরো শোন । আমি যবে থেকে চাকরি পেয়েছি তবে থেকে আমার বাড়ীতে বিভিন্ন মেয়ের বাবা ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা নিজেদের মেয়েকে আমকে বিয়ে দেবে বলে ফটো হাতে লাইন লাগিয়েছে । যেখানেই মেয়ে দেখতে গিয়েছি সেখানেই তাদের বাবা – মা আর আত্মীয় স্বজনরা নিজেদের মেয়ের গুণগান করে কান ঝালা – পালা করে দেয় । মেয়রাও খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে । তারপর আর কি । ফোন নাম্বার দেওয়া -নেওয়া । হোয়াটসআপ –মেসেঞ্জারে কথাবার্তা , তারপর প্রেম । আসলে মেয়ে গুলো আমার সাথে প্রেম করার জন্য মুখিয়ে থাকে । মনে করে স্কুল মাস্টার এর চাকরি করা ছেলে পেয়ে যাবে আর সারা জীবন আমার ইনকামের টাকায় ফুটানি মারবে । আমিও সুযোগ ছাড়বো কেন বল । সকলের সাথে আমিও প্রেমের অভিনয় করি । সুযোগ পেলে তাদের নিয়ে মস্তি করি, তুই বুঝতে পারছিস আমি কি বলতে চাইছি”?
ফরিদ মাথা নেড়ে জানিয়ে দিল যে মুস্তাকের কথা তার বুঝতে বাকি নেই ।
এবার ফরিদ জিজ্ঞসা করলো – ‘ এই সাত জনের মধ্যে কাকে বিয়ে তাহলে করবি”?
“কাউকেই না । আরও অনেক মেয়ের বাবারা তাদের মেয়ের ছবি নিয়ে এসে আমাকে বিয়ে করার জন্য ভিখারির মত অনুরোধ করবে । তাদেরও দেখি । তারপর একটা খুব সুন্দর দেখতে বড়লোকের মেয়েকে দেখে বিয়ে করে নেব । আর অন্য সকলকে বলে দেব আমাদের বাড়ীর লোক তোমাকে পছন্দ করছে না , এই বলে তাদের সাথে সম্পর্ক কেটে দেব “।
ফরিদ সব শুনে বলল , “তোর ভালো বুদ্ধি তো” ।
মুস্তাক এবারে জোরে হেসে বলে – “বেশির ভাগ চাকরি পাওয়া ছেলেরা এখন এমনি করছে । আসলে তাদের চাহিদা যে আকাশ ছোঁয়া “।
এমন সময় আবার মুস্তাকের ফোন টা বেজে উঠলো । ফোন রিসিভ করতেই আবার একটি মেয়ের গলার আওয়াজ – “ডিউটি শেষ হল ? কিছু খেলে” ?
মুস্তাক একি ভাবে বলল “ডার্লিং এই ডিউটি শেষ হল । এইবার খাব “।
এবারে মেয়েটার গলার আওয়াজ শুনে ফরিদ চমকে গেল । খুব পরিচিত কণ্ঠস্বর । আরও ভালো করে শোনার চেষ্টা করলো ।
“কেন এতক্ষন ফোন করো নি , তোমার জন্য আমার চিন্তা হচ্ছিল সোনা । খেয়ে নাও আর বাড়ী ফিরে ফোন করো , আমি তোমার অপেক্ষায় রইলাম , আই লাভ ইউ “।
মুস্তাকও বলল – ‘আই লাভ ইউ ডার্লিং । আমি বাড়ী ফিরে ফোন করবো । এখন রেখে দাও “ – এই বলে ফোন রেখে দিল ।
ফরিদ সব শুনে গম্ভীর ভাবে মুস্তাককে জিজ্ঞাসা করলো – “মেয়েটির নাম কি “?
মুস্তাক বলল – “সামিনা সুলতানা”
কথাটা কানে যেতেই ফরিদ একদম চুপ হয়ে গেল ।
এবার মুস্তাক ফরিদ কে জিজ্ঞাসা করলো সে কোন মেয়ের সাথে প্রেম করছে কিনা ?
ফরিদ মুখে কিছু না বলে চুপ হয়ে থাকলো ।
মুস্তাক তখন ফরিদের মোবাইল টা নিয়ে গ্যালারীতে ফটো গুলো দেখতে লাগলো ।
হটাত ফরিদের মনে পড়ল, তার ফোনে সামিনাকে জড়িয়ে ধরে পার্ক এ বসে তাদের দুজনের ছবি গুলো সব আছে । চট করে ফরিদ মুস্তাকের হাত থেকে নিজের মোবাইল টা ছিনিয়ে নিয়ে “আমার একটা জরুরী কাজ আছে , কিছু খাব না ‘ – এই বলে দ্রুত দোকান থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিল বাস ধরার জন্য । পিছন থেকে মুস্তাক ডাকলেও তার ডাকে সাড়া না দিয়ে চলেতে থাকলো সামনের দিকে । একবার ফরিদের মনে হল ফোনে করে জানিয়ে দেবে সব সামিনাকে । মোবাইল টা পকেট থেকে বের করে হাতে নিল । আবার সেই সামিনার করা শেষ sms টা একবার পড়লো । তারপর কি মনে হল আবার মোবাইল টা পকেটে পূরে নিয়ে দ্রুত হাঁটা দিল মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ড এর দিকে ।

তারিফ আলম





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?