সাধকপ্রবর তারাপীঠ ভৈরব বামদেব

13th July 2020 9:22 pm প্রবন্ধ
সাধকপ্রবর তারাপীঠ ভৈরব বামদেব


প্রবন্ধ :- "সাধকপ্রবর তারাপীঠ ভৈরব বামদেব"
লেখক :- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
*****
তারাপীঠ ভৈরব বামদেব বা ক্ষ্যাপাবাবার তিরোধান দিবসে প্রণাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ।
শ্রী রামকষ্ণ পরমহংসদেবের সমসাময়িক ঊনিশ দশকের ( ১৮৩৭ - ১৯১১ )সময়কালে এক মহা শক্তিধর তন্ত্রিক ব্রহ্মচারী সর্বত্যাগী শ্মশাণবাসী মা তারাদেবীর পরমভক্ত সাধক বামাচরন বা ক্ষ্যাপাবাবা বামদেবের আবির্ভাব এবং কর্মকাল। যিনি মা তারাকে ছাড়া আর কিছুই জানতেন না এবং মানতেনও না। শাস্ত্রীয় নিয়ম কানুনের বাধা নিষেধেরও কোন বালাই ওনার ছিল না, যার জন্যে লোকে ওনাকে ক্ষ্যাপাবাবা আখ্যা দিয়েছিল। সর্বত্যাগী সুকণ্ঠী বামাচরন বাল্যকালে কৈলাসপতি নামে এক সন্যাসীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তারাপীঠের মহাশ্মশানে শ্মশানবাসী হয়ে যোগ এবং তন্ত্র সাধনা আরম্ভ করেন। পরবর্তী কালে উনি শ্রেষ্ঠতান্ত্রিকের স্তরে উন্নিত হয়ে স্থানীয় এবং দূর দরাজের লোকের কাছে সম্মানীয় এবং পূজিত হয়েছিলেন। ওনার উপর জনগণের আস্থা দিনে দিনে বেড়ে উঠেছিল। বিশেষকরে ওনার তান্ত্রিক ক্রিয়াকাণ্ডের উপর। অদ্ভুত শক্তিধারী ছিলেন ক্ষ্যাপাবাবা!। ওনার পরিচয় দেশের সর্বত্র বিশেষকরে তান্ত্রিক মহলে দ্রুত প্রচারিত হয়েছিল। মানুষের অগাধ বিশ্বাস হয়েছিল যে, যেকোন বিপদ আপদে, রোগভোগে একমাত্র ক্ষ্যাপাবাবাই পারেন উদ্ধার করতে ,কারণ উনি যে তারামায়ের পুত্র। ক্ষ্যাপাবাবা মা তারাকে বড়মা বলেই সম্বোধন করতেন। উনি মা তারার দর্শণলাভ করেছিলেন। ক্ষ্যাপাবাবা যখন ইচ্ছে মা তারার কাছে যেতে পারতেন,তারামায়ের সঙ্গে তিনি বার্তালাপ করতেন ,আবার দেবীর সঙ্গে একই আসনে ভোগ গ্রহণও করতেন, আবার কখন কখন দেবীকে ভোগ নিবেদন না করেই সেই ভোগ দেবীর আগে নিজেই খেয়ে ফেলতেন ! মন্দিরের কোন নিয়ম - কানুনই বাধা ছিল না। উনি যে তারামায়ের প্রিয় ক্ষ্যাপাপুত্র! বামাচরন, বামদেব।
আজকের দিনে কালের কড়াল গ্রাসে ইহলীলা সমাপ্ত করে ক্ষ্যাপাবাবা তাঁর বড়মা, তারামায়ের কোলে চলেগেলেন পরম শক্তিধর তান্ত্রিক সাধকপ্রবর তারাপীঠভৈরব বামদেব,সবার আদরের ক্ষ্যাপাবাবা, বামদেব। সাধকপ্রবর তারাপীঠভৈরব বামদেব, ক্ষ্যাপাবাবার শ্রীচরনে শতকোটি প্রণাম।
জয় মা তারা। জয় বামদেব।





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     নির্ভিক সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - ১৮ সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।