শিক্ষামূলক গল্প --- ভয়

29th July 2020 11:19 am শিক্ষামূলক গল্প
শিক্ষামূলক গল্প --- ভয়


একবার এক লোকের ইচ্ছা হল তিনি সাঁতার দিয়ে পাশের একটি নদী পাড়ি দিবেন। তাই ইচ্ছে মোতাবেক লোকটি নদীর দিকে হাঁটতে শুরু করলো। পথে লোকজন জানতে চাইল যে সে কোনদিকে যাচ্ছে। লোকটি যখনই বলল যে সে সাঁতরে নদী পার হবে, সাথে সাথে লোকজন তাকে বলল, নদীতে অনেক কুমির আর সাপ আছে তাই তুমি সাঁতরাতে গেলেই ওরা তোমাকে কামড়ে দেবে। লোকটি তাদের কথায় কান না দিয়ে আবার চলতে শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে লোকটি নদীর কাছে পৌঁছে গেল। নদীতে নামতে যাবে ঠিক এমন সময়ে লোকটি খেয়াল করলো নদীর কিনারায় মাটির গর্তের ভেতর সাপ দেখা যাচ্ছে। লোকটির তখন সেই লোকগুলোর কথা মনে পড়লো, তাই ভয় পেয়ে আর নদী না সাঁতরে বাড়ি ফিরে এলো।
কিছুদিন পর আবার বের হল নদী সাঁতরাতে। পথমধ্যে এবারো কিছু লোকের সাথে তার দেখা হল এবং নদী সাঁতরানোর কথা শুনে তারা বলল নদীতে এখন অনেক বেশি পানি আর স্রোতও অনেক, তাই সাঁতরাতে গেলে ডুবে মরবে। কথাগুলো শুনে কোনও মন্তব্য না করে লোকটি নদীর দিকে ছুটলো এবং দেখলো নদীতে সত্যিই অনেক বেশি পানি আর স্রোতও অনেক। লোকটি এবারো ভয় পেয়ে আগের মতোই বাড়ি ফিরে এলো।
বেশ কিছু দিন পর লোকটি সকালে নদীর ধারে ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিল। এমন সময় দেখতে পেল একটা ছোট ছেলে পানির ভেতর পড়ে যেয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। লোকটি সাথে সাথে নদীতে নেমে গেল এবং ছেলেটির জীবন বাঁচাল। নদীর পাড়ে ছেলেটিকে এনে লোকটি তার কাছে জানতে চাইলো যে সে কিভাবে নদীর ভেতর পড়ে গেল।
জবাবে ছেলেটি বলল- “আমার খেলার বলটি নদীর পানিতে ছিটকে পড়েছিল, তাই বল আনতে পানিতে নেমেছিলাম।” জবাবে লোকটি যখন বলল যে নদীতে অনেক সাপ-কুমির আছে আবার নদীর পানিতে স্রোতও অনেক বেশি- তখনই ছোট্ট ছেলেটি উত্তর দিল, “আমি পানিতে নামার সময় একটা সাপও দেখিনি, আর আমি ডুবে যাচ্ছিলাম পানির স্রোতের কারনে নয়- বরং আমি সাঁতরাতে পারি না বলে।” ছোট্ট ছেলেটির কথায় লোকটি সম্বিত ফিরে পেল। লোকটি বুঝতে পারলো তার দুর্বলতা আর ভাবতে লাগল সত্যিই তো- কোনও সাপ তাকে এখন কামড়াতে আসেনি, এমনকি নদীর স্রোতের মুখ থেকে যখন ছোট ছেলেটিকে সে বাঁচাল তখনও কোনও স্রোতের তালে সে ডুবে যায়নি, অথচ ওগুলোর ভয়তেই সে এতোদিন নদী পার হয়নি। আর দেরি না করে লোকটি সাথে সাথে নদীতে ঝাঁপ দিল আর সাঁতরে এক নিমিষেই ওপারে পৌঁছে গেল।

#মূলকথা: মানুষ আপনাকে থামাতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। নানা রকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে আপনার পথ কেউ না কেউ এসে রুদ্ধ করবেই। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, আপনার ভিতরে কী প্রতিভা আছে—তা আপনার চেয়ে বেশি অন্য কেউ জানে না। তাই আপনার ভিতরের সত্যিকারের প্রতিভা আপনাকেই আবিষ্কার করে তার পরিচর্যা করতে হবে। মিছে ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পথে নেমে পড়ুন। আত্মবিশ্বাস রাখুন- আপনি পারবেন। ভয়-বিপদ তো আছেই- তবে তা অবশ্যই আপনার জয় করার ক্ষমতার ঊর্ধ্বে নয়।
সুতরাং জয়ী হবার মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে পদক্ষেপ নিন- “সফলতা আসবেই।”





Others News

অন্ধ ঘোড়া

অন্ধ ঘোড়া


এক লোকের দুটি ঘোড়া ছিল। দূর থেকে দেখতে ঘোড়া দুটিকে প্রায় একই রকম লাগতো।

কিন্তু কেউ যদি ভাল মত দেখে তাহলে বুঝবে যে দুটি ঘোড়ার মধ্যে একটি ছিলো অন্ধ।

তাদের মালিক অনেক ভালো ছিলো। তাই সে অন্ধ ঘোড়াটিকেও অন্য ঘোড়াটির মতই যত্ন করতো। আস্তাবলে দুটি ঘোড়ার জন্যই আরামদায়ক শোয়ার যায়গার ব্যবস্থা করেছিলো সে। সকাল বেলা দুটি ঘোড়াই সামনের মাঠে ঘাস খেতে চলে যেত।

ঘোড়াদুটি যখন মাঠে ঘুরে বেড়ায় তখন কেউ যদি কান পেতে রাখে তবে সে একটা মৃদু ঘন্টার শব্দ শুনতে পাবে। এই ছোট্ট ঘন্টাটি সুস্থ ঘোড়ার গলায় বাধা ছিলো। ঘন্টার শব্দ অন্ধ ঘোড়াটিকে বুঝতে সাহায্য করতো যে তার সঙ্গী কোথায় রয়েছে।

কেউ যদি মাঠের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সে দেখতে পাবে যে সুস্থ ঘোড়াটি সব সময় অন্ধ ঘোড়াটিকে চোখে চোখে রাখছে যাতে সে হারিয়ে না যায়, অন্ধ ঘোড়াটিও মাঝে মাঝে কান খাড়া করে ঘন্টার শব্দ শুনছে এবং ধীরে ধীরে অপর ঘোড়াটির কাছে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে সবসময় এই বিশ্বাস যে তার বন্ধু তাকে কখনো ভুল পথে নিয়ে যাবে না।

সন্ধ্যায় যখন ঘন্টা বাধা ঘোড়াটি যখন বাড়িতে ফিরে আসতে থাকে তখন সে বার বার পেছনে ঘুরে তাকায়, এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, সে যেন খুব দূরে চলে না যায় যাতে অন্ধ ঘোড়াটি ঘন্টার শব্দ শুনতে না পারে। এভাবে তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসে।

****ঠিক এই অন্ধ ঘোড়াটির মত যদি আমরা নিখুত না হই অথবা আমদের কোন শারিরীক বা মানসিক সমস্যা থাকে তাহলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের কখনোই একা ছেড়ে দেন না।

তিনি আমাদের উপর সবসময় নজর রাখেন এবং আমাদের জীবনে এমন কাউকে পাঠান যাদের সাহায্যের আমাদের প্রয়োজন হয়।

কখনো আমরা সেই অন্ধ ঘোড়াটির মত, যার জীবনে সৃষ্টিকর্তা আরেকজনকে পাঠিয়ে দেন সাহায্যের জন্য। আবার কখনো আমরাই সেই ঘন্টাওয়ালা ঘোড়াটি, যে অন্য কাউকে পথ খুজে পেতে সাহায্য করে।