নির্ভিক কর্মযোগী আচার্য পি.সি.রায়

2nd August 2020 8:52 pm প্রবন্ধ
নির্ভিক কর্মযোগী আচার্য পি.সি.রায়


প্রবন্ধ :- "নির্ভিক কর্মযোগী আচার্য পি.সি.রায়"
লেখক :- গোপাল চন্দ্র মুখার্জী

( জন্ম :- 2/8/1861, মৃত্যু :- 16/6/1944)
" Science can wait but Swaraaj can not."
"সায়েন্স ক্যান ওয়েট বাট স্বরাজ ক্যান নট"।
নির্ভিক মন্তব্য! ! পরাধীন ভারতে বিদ্বান - মনীষীগণ অনেকেই বলতেন যদি দেশে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়
এবং গান্ধীজীর মতো ব্যক্তিত্ব আরও দুজন করে জন্মাতেন তবে, দেশে স্বরাজ কবেই এসে যেত!। বুদ্ধিজীবী মহলে যতার্থই মূল্যায়িত হয়েছিল আচার্য।
বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলায় ধনী জমিদার বংশে জন্ম নেন দেশ এবং বাংলা ভাষাপ্রেমী, নির্ভিকলেখক, বিশ্ববিখ্যাত রসায়নশাস্ত্র বিজ্ঞানী, নিরহংকারী ছাত্র দরদী অধ্যাপক, আবিস্কারক, ভারতীয় ভেষজ রসায়ন কারখানার স্বাভিমানী প্রতিষ্ঠাতা - আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায।
ইংরেজ শাসন কালে ক্যালকাটা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত প্রথম ভারতীয় অধ্যাপক, মানব দরদী, ব্রহ্মচারী, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।
আচার্যের বিশাল কর্মময় জীবনের বর্ণনা অল্প কথায় করা যাবে না। তাই ওনার শ্রীচরণে আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করলাম।
চেষ্টা করছি যথাসাধ্য এমন একজন বিশ্ব বিখ্যাত স্বাভীমানী বিরাট মানসিকতা সম্পন্ন নির্ভিক দেশপ্রেমী বিজ্ঞানীর নিরলস কর্মময় জীবনের বর্ণনা করতে।
আচার্যের মেধার কথা তো কিংবদয়ন্তি! । এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৮৭ সালে "ডক্টরেট অফ সায়েন্স" উপাধি পাওয়ার পর উনি স্বদেশের টানে ১৮৮৮ সালে বিদেশ থেকে ভারতে ফিরে এসে কলকাতায় প্রেসিডেন্সী কলেজে সহ অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেন। অধ্যাপনার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে রসায়নের উপর গভেষণা। কলেজ প্রশাসনের অথবা ইংরেজ সরকারের নিয়ম বিরুদ্ধ হ​য়ে বাংলাভাষা প্রেমী আচার্য কলেজে বাংলা ভাষাতেই ছাত্রদের পড়াতেন। কারন, উনি মানতেন যে নিজস্ব ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ এবং শিক্ষাদান দুটোই সাবলীল এবং সহজাত , স্বাভাবিক গ্রহণ সাপেক্ষ। আচার্য নিজের সরল স্বভাবের জন্যে ছাত্রদের অতি প্রিয় ছিলেন।
১৮৯৫ এ বিশ্ববিখ্যাত হলেন "মারকিউরাস নাইট্রাইটের" আবিষ্কার করে। এছাড়াও উনি আবিষ্কার করেছিলেন ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫ টি থায়োএস্টারের। এই রকম মেধাবী বিশ্বখ্যাত বিদ্বান হওয়া সত্বেও আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কেবল ভারতীয় হবার জন্য প্রেসিডেন্সী কলেজে অনেক কম টাকা মাইনে পেতেন, যেখানে ওনার থেকে কম বিদ্বান বা কম অনুভবি ইংরেজ অধ্যাপকেরা অনেক বেশী বেতন এবং সুযোগ সুবিধা পেত। আচার্য প্রতিবাদ করায় কলেজ কর্তীপক্ষ তির্যক করে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার কথা বলে। আচার্য সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং ১৯০১ সালে নিজের বাসস্থানেই দেশীয় ভেষজ নিয়ে স্থাপনা করলেন "বেঙ্গল কেমিক্যাল" কারখানার।
অদ্ভুত আত্মাভিমান! উদার মন এবং নির্ভিক অসাম্প্রদায়িকতার নিদর্শন ছিলেন স্বয়ং আচার্য ! ১৯০৫ সালে যখন প্রেসিডেন্সী কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুসার ডক্টর কুদরত এ খুদাকে রসায়নশাস্ত্রে প্রথম বিভাগ যেন দেওয়া না হয় , কলেজ কর্তৃপক্ষের এইরকম সিদ্ধান্তের কাছে কোনও রকমের নতী স্বীকার না করে আচার্য প্ৰফুল চন্দ্র ডক্টর কুদরত এ খুদাকে রসায়নশাস্ত্রে প্রথম বিভাগ দিয়ে ন্যায়সংগত নির্ণয় নিয়ে যথোচিত ন্যায় করেছিলেন।
ছোট ছোট ব্যাবসায়ী এবং চাষীদের যাতে সহজ ভাবে আর্থিক সহায়তা লাভ হয়,সেই জন্য উনি ১৯০৯ সালে স্থাপন করেছিলেন "কো অপারেটিভ ব্যাংকের"।
১৯১১ সালে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় আচার্যকে ডক্টরেট উপাধি দেয়। ১৯১৯ সালে ইংরেজ সরকার ওনাকে "নাইট" এবং "স্যার" এর সম্মানে সম্মানিত করে। পরে ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মহীশূর এবং বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় আচার্যকে ডক্টরেট উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন।
১৯২২ সালের ভীষণ বন্যার সময় মানব দরদী মহাত্মা আচার্য প্রফুল্ল সমস্ত কাজ ছেড়ে বন্যাত্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্থিক সহযোগ এবং অন্যদের থেকেও ত্রাণ সাহার্য সংগ্রহ করে প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা বন্যাত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন।
বিদ্বানপ্রবরকে স্বদেশী পোষাকে সাদা সীধা সরল নিরহংকার জীবন যাপন করতে দেখে মহাত্মা গান্ধীজীও অবাক হয়ে বলেছিলেন- আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রের মত একজন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর এইরকম সহজ সরল জীবন যাপন, কল্পনার বাইরে!।
আচার্য প্রফুল চন্দ্র রায় ১৯২৪ সালে "ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোস্যাইটীর" স্থাপনা করেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এই মহান ত্যাগী মহাপ্রাণ জীবনের অন্তিম দিন ১৬/০৬/১৯৪৪ পর্য্যন্ত "এমেরিয়টস প্রোফেসরের" পদে থেকে কর্তব্য পরায়ন কর্মী ছিলেন।

Image may contain: one or more people





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     à¦¨à¦¿à¦°à§à¦­à¦¿à¦• সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - à§§à§® সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।