*দীর্ঘজীবী হও তুমি মরীচিকা *
---- রাফিয়া সুলতানা
10.06.20
রতন বাবুর দেওয়াল ঘড়িটা কুড়ি মিনিট ফাস্ট।
তিনি তা জানেন। ইচ্ছা ক'রেই তা ক'রে রাখা।
তবুও সেটা দেখেই তিনি সকাল থেকে
দৌড়াদৌড়ি ক'রে
রোজ রেডি হন,
কলেজে যাবার জন্য!
আশা, তাহলে রাইট টাইমে ট্রেনটা পাবেন!
প্রতি বিকেলে পাড়ার বাচ্চা গুলো
কাটা ঘুড়ির পিছনে রোজ দৌড়োয়,
জানে পাওয়া যাবে না,তাও।
আশা, কোনো গাছের ডালে ঠিক আটকাবে
একটা না একটা !
বেকার ছেলে রবি,
বাজারের ফুটপাথের দোকান থেকে
পকেট খরচা থেকে বাঁচিয়ে
দশটাকা দিয়ে প্রতি সপ্তাহে
লটারীর টিকিট কাটে একটা।
জানে, জিতবে না কোনোদিও, তাও
যদি কোনোদিন লেগে যায়, এই আশায়!
বুলি তার টালির চালওয়ালা
ভাড়ারবাড়িটার বারান্দায় দাঁড়ায় রোজ,
জবাব দিয়ে যাওয়া নোটনটার পথচেয়ে।
জানে, আর কোনোদিনও ফিরবে না সে।
তবুও আশা-
আসতেও তো পারে
আবার কোনদিন!
এই মরীচিকা গুলোই আমাদের পথ চলায়, অনন্ত চলার পথে --
আশায়, দুরাশায়....
আমাদের ক্লান্ত শ্রান্ত মননে, মনের অজান্তে!
মরীচিকা গুলো দীর্ঘজীবি হোক!
অনাদি অনন্তকাল, যুগ যুগ ধরে.....
দীর্ঘ জীবি হও তুমি মরীচিকা !