অচেনা -- তারিফ আলম

5th August 2021 8:39 pm তারিফ আলম
অচেনা -- তারিফ আলম


গল্প - *অচেনা*

লেখা - তারিফ আলম

নতুন চাকরীতে যোগদান করেছে রুমা । বেলদা তে একটি পাবলিক লাইব্রেরীতে লাইব্রেরিয়ান হিসাবে । বাস থেকে নামতেই দেখল ঐ ছেলেটা বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । ঐ মানে একটা ১৯ – ২০ বছর বয়সী ছেলে , রুমা থেকে কম করে à§« বছরের ছোট হবে । কয়েকদিন আগে নন্দ মার্কেট এর মধ্যে দিয়ে লাইব্রেরি যাওয়ার সময় একদম বাইক নিয়ে এসে রুমার গায়ে চড়িয়ে দেয় প্রায় , হাতে ব্যাগ টা থাকার কারনে ধাক্কাটা ব্যাগের উপর দিয়ে চলে গেলেও রুমা টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় মাটিতে । ছেলেটিও মাটিতে পড়ে যায় । রুমা উঠে পড়ে টেনে এক চড় মেরেছিল তাকে । সে দিন ছেলেটি চড় খেয়েও কিছু বলেনি । শুধু এক দৃষ্টি তে চেয়ে ছিল তার দিকে । রুমা সেখান থেকে দ্রুত চলে গিয়েছিল ।

তারপর দিন যখন বাস থেকে নেমে লাইব্রেরীর দিকে চলা শুরু করেছিল তখন দেখল ঐ ছেলেটি বাইক নিয়ে তার পিছু পিছু ধীরে ধীরে আসছে । দেখেও না দেখার ভান করে রুমা দ্রুত পায়ে হেঁটে লাইব্রেরী তে এসে উপস্থিত হয় । নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যাস্ত করে নিয়েছিল । হটাত বাইরে গেটের দিকে চোখ যেতেই এ বার রুমা খুব ভয় পেয়ে গেল । ঐ ছেলেটি একটা জিন্স আর স্কিন টাইট গেঞ্জি পরে লাইব্রেরীর বাইরে একটা পান দোকানে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে আর তার দিকে চেয়ে আছে এক দৃষ্টিতে ।

রুমার এই যায়গাটা একদম অচেনা । তার উপরে এখানে পরিচিতও কেউ নেই । ছেলেটা তার কোন ক্ষতি করার মতলব করছে নিশ্চয় । বাসস্ট্যান্ড থেকে তার পিছু নিয়ে এসেছে ।

কি করবে কিছু ভেবে পেল না । কেন যে ছেলেটাকে চড় মারতে গেল । কয়েকদিন আগে নিউজ পেপারে পড়েছিল , একটা ছেলেকে একটা মেয়ে চড় মারায় তার মুখে অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল ।

রুমা লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ড এর দিকে দ্রুত হাটা দিল । হটাত দেখল সেই ছেলেটা বাইক নিয়ে একদম পাশে এসে রুমাকে বলল , ‘ একটু দাঁড়ান ম্যাডাম , একটা কথা আছে ‘।

রুমা এবার খুব ভয় পেয়ে গেল । ‘ তোমার মত বাজে লোফার ছেলের সাথে আমার কোন কথা নেই ...... এই বলে রুমা দ্রুত গিয়ে একটা অটো তে উঠে পড়লো । দেখল ছেলেটি বাইক নিয়ে অটোর পেছন পেছন আসছে । রুমা অটো থেকে নেমে দ্রুত একটা আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে উঠে পড়েছিল ।

বাড়ীতে মা কে রুমা ঐ ছেলেটার কথা সব বলেছিল । মাও খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন । ঐ ছেলেটার নামে বেলদা থানা তে একটা এফ আই আর করার কথা বললেন । কিন্তু সে এখন পর্যন্ত এমন কিছু করে নি যে তার নামে পুলিশে রিপোর্ট করা যাবে ।

যাই হোক, কালী পুজাতে বেড়াতে যাওয়ার প্লান করেছিল রুমা বন্ধুদের সাথে । কিন্তু সারাদিন ধরে যা বৃষ্টি – সব আনন্দ মাটি করে দিল । মন মেজাজ একদম ভালো ছিল না রুমার । তার উপর আরও মেজাজ বিগড়ে গেল যখন লাইব্রেরীর এক জন কর্মীর ফোন এলো । প্রচুর বৃষ্টিতে জল লাইব্রেরীর মধ্যে ঢুকে গিয়েছে । বই গুলো সব নষ্ট হয়ে যেতে পারে । গ্রুপ ডি কর্মীর কাছে চাবি থাকে , কিন্তু সে দেশের বাড়ী চলে গিয়েছে । বাধ্য হয়ে আজ ভাই ফোঁটার ছুটির দিনেও তাকে আসতে হয়েছে বেলদাতে ।

কিন্তু আজও যে ছেলেটি তার পিছু নেবে তা রুমা ভাবতে পারি নি । যাই হোক , দ্রুত লাইব্রেরীতে এসে দেখল সত্যি জল ঢুকে গিয়েছে । বই গুলো সব তুলে উপরের আলমারির তাকে রাখল । জানালা দিয়ে উঁকি মেরে পান দোকানের দিকে দেখল , না ছেলেটি নেই । যাক হোক আপদ বিদায় হয়েছে ।

কাজ শেষ করে লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে বাস স্ট্যান্ড এর উদ্দেশ্যে হাঁটা দিল । নন্দ মার্কেট থেকে বেরিয়ে রোড ধরে এগিয়ে যাবে । এমন সময় ঐ ছেলেটি কোথা থেকে এসে রুমার পথ আগলে দাঁড়াল । তার হাতে একটা খামে ভরা চিঠি ছিল । সে রুমার দিকে বাড়িয়ে দিল চিঠি টা ।

রুমা এবার খুব রেগে গেল । তার থেকে বয়সে ছোট হয়ে তাকে প্রেম পত্র দেওয়া । অসভ্য , ইতর ......... তোমার বাড়ীতে মা বোন নেই । বাজে ছেলে ...... রুমা চিৎকার করে কথা গুলো বলল ।

রুমার চিৎকার শুনে আসে – পাশের দোকান গুলোতে আড্ডা মারছিল যে লোক গুলো , তারা ছুটে এলো ।

কি হয়েছে ম্যাডাম ?

রুমা কে সকলে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো ।

রুমা চিৎকার করে ছিলেটিকে দেখিয়ে বলল , এই ছেলেটি কয়েকদিন থেকে আমার পিছু নিয়েছে । আমাকে সব সময় বিরক্ত করছে । এখন আমাকে লাভ লেটার দিচ্ছে । বাজে ছেলে একটা ।

ছেলেটি এবার ভয় পেয়ে বলল , না । আমি খারাপ কিছু করতে চাই নি । আমার কথা দয়া করে একটু শুনুন ।

কিন্তু তার কথা শুনার সময় লোক গুলোর হাতে ছিল না । তারা সকলে মিলে ছেলেটিতে মাটিতে ফেলে মারা শুরু করে দিল । লাথ , ঘুসি , লাঠি – যে যা পারলো দিয়ে মারতে লাগলো ছেলেটিকে ।

রুমা ছেলেটির হাত থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়া চিঠি টা তুলে নিয়ে দেখল কাগজে মোড়া একটি মেয়ের ছবি । ছবির মেয়েটা আশ্চর্য ভাবে দেখতে অনেকটা রুমারই মত । দ্রুত চিঠিটা পড়তে লাগলো ......” প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আপানকে সেদিন ধাক্কা দেওয়ার জন্য । আপনি চড় মেরেছেন খুব ভালো করেছেন । সে দিন আমি ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ পাই নি । আর এই ছবি টা আমার একমাত্র দিদির । গত বছর দিদিকে বাইকে চড়িয়ে যখন ঘুরতে বেরিয়েছিলাম ভাইফোঁটার দিনে , সে দিন একটা মারুতি এসে ধাক্কা মারে আমার বাইকে । আমরা পড়ে যাই । আমার মাথায় হেলমেট ছিল তাই বেঁচে যাই ,কিন্তু দিদি মারা যায় । আমি খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম , অনেক কেঁদেছিলাম । সে দিন প্রথম যখন আপনাকে দেখলাম ... মনে হল আমার দিদি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে । আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি এই কথা গুলো বলার । কিন্তু বলতে পারি নি । তাই এই চিঠি দিলাম । কিছু মনে না করলে আপনি আমার দিদি হবেন । আজ ভাই ফোঁটার দিনে আমি খুব মিস করছি আমার দিদি কে । দয়াকরে আপনি আমার দিদি হয়ে আজ আমাকে ভাইফোঁটা দেবেন ? “

রুমা চিঠিটা পড়তে পড়তে চোখে জল চলে এলো । ছুটে গিয়ে মারমুখি জনতাকে থামানোর চেষ্টা করতে লাগলো । কিন্তু জনতার কথা শোনার সময় কই । হাতের সুখ মেটাতে ব্যস্ত ছেলেটাকে মেরে ।

রুমা শেষে সকলকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে ছেলেটির কাছে যায় । সে মাটিতে পড়ে ছিল । তার মাথা – নাক – মুখ থেকে অঝোরে রক্তপাত হয়ে চলেছে । রুমা দ্রুত গিয়ে ছেলেটির মাথা নিজের কোলে তুলে নিল । ভাই ...ভাই ...ভাই আমার , চোখ খুল ।

রুমার কথায় ছেলেটি চোখ মেলে তাকাল রুমার দিকে । অনেক কষ্টে মুখ দিয়ে শুধু ...’ দিদি’ ডাক টা বের হল । রুমার কান্না পেল ছেলেটির এই অবস্থা দেখে ।

ভাই ......ভাই আমার । আমরও কোন ভাই নেই । তুই আমার আজ থেকে ভাই ।

ছেলেটি অনেক কষ্টে কিছু বলতে চাইছিল । কিন্তু পারলো না । পাবলিকের মার – শেওড়া তলা পার । রুমার কোলেই মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো ছেলেটি । রুমার দু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল । অনেক বার রুমা ভাই ভাই বলে ডাকলেও সে সাড়া দিচ্ছিল না । রুমা হাতে রক্ত নিয়ে ছেলেটির কপালে ফোঁটা দিতে দিতে বলল ......ভাই এর কপালে দিলাম ফোঁটা , যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা । ভাই এর প্রান ফিরিয়ে দাও ভগবান – এই বলে কাঁদতে লাগলো । এমন সময় ছেলেটি ডাক দিল ---‘ দিদি , আমার দিদি ‘।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?