গুরুদক্ষিণা --- কলমে তারিফ আলম

26th August 2021 6:47 pm তারিফ আলম
গুরুদক্ষিণা --- কলমে তারিফ আলম


ছোটগল্প --- গুরুদক্ষিণা  

লেখা-  তারিফ আলম 

 

স্কুলের প্রার্থনা শেষ হতেই সাব্বির ছুটে গিয়ে অফিস রুমে সকল শিক্ষক – শিক্ষিকাদের মধ্যে তার প্রিয় শিক্ষককে খুঁজতে লাগল । কিন্তু দেখতে পেল না । পিছন থেকে রবি স্যার ডেকে বললেন , কাকে খুঁজছ ?

সাব্বির ভয়ে ভয়ে বলল , জুগজিত স্যারকে । তাঁর এখন ক্লাস আছে ।

রবি স্যার একটু ভেবে নিয়ে বললেন , জুগজিত বাবু আসেন নি । ক্লাসে বসবে যাও , অন্য স্যার যাচ্ছেন ক্লাস নেবেন ।

স্যার আসেন নি শুনে সাব্বিরের মন টা খুব খারাপ হয়ে গেল । সব্বির বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী এর ক্লাস সেভেন এর ছাত্র । তাদের বাংলা ক্লাস টা জুগজিত নন্দ বাবু নিতেন । তিনি যখন ক্লাসে পড়াতেন তখন সাব্বির এর খুব ভাল লাগত । অন্য সকল স্যার ভালো বুঝিয়ে পড়ালেও জুগজিত স্যার এর পড়ানো খুবই ভালো লাগতো সাব্বিরের । স্যারও প্রতিদিন সাব্বিরের সাথে কোন না কোন কথা বলতেন । সাব্বির প্রতিদিন বাংলা সব পড়া করে আসতো এবং স্যার কোন প্রশ্ন করলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে দিত বলে স্যারও খুব ভালোবাসতেন সাব্বিরকে ।

কিন্তু কিছুদিন ধরে জুগজিত স্যার আর স্কুল আসেন না । সাব্বিরের মন খুব খারাপ । প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছে প্রথমে কমন রুমে গিয়ে চারিদিকে খুঁজে দেখে স্যার এসেছেন কি না , তারপর ক্লাসে যায় । জুগজিত স্যার এর অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন স্যার বাংলা ক্লাস টা নেন । অন্য স্যাররা ভালো পড়ালেও সাব্বিরের পড়ায় মন লাগে না , মনমরা হয়ে বসে থাকে চুপ করে ।

স্কুল থেকে বাড়ী প্রায় তিন কিমি পথ । হেঁটেই যাতায়াত করে ১৩ বছরের ছোট্ট ছেলে সাব্বির । অনেকটা পথ হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যাথা হয়ে যায় । একটা সাইকেল কিনার খুব ইচ্ছা । লাল রঙের ছোট হিরো সাইকেল । তার বন্ধু দিনেশ এর আছে । একবার তার কাছ থেকে চেয়ে চালাতে গিয়ে সাইকেল টা লিক হয়ে গিয়েছিল বলে দিনেশ তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালাগাল করেছিল আর মেরেছিল । বাড়ীতে ফিরে সাব্বির অনেক কান্নাকাটি করেছিল আর বাবাকে নতুন সাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য বলেছিল । বাবা বলেছিলেন নতুন একটা সাইকেল এর দাম ১৫০০ টাকার কম হবে না । এক সাথে এত টাকা আমি দিতে পারবো না ।

শুনে সাব্বিরের খুব কষ্ট হয়েছিল । পরদিন বাবা বাজার থেকে একটা মাটির ভাঁড় এনে দিলেন , আর বললেন , এই ভাঁড়ে প্রতিদিন একটু একটু করে টাকা জমা । যখন বেশি হয়ে যাবে তখন ভেঙ্গে একটা সাইকেল কিনে দেব ।

সাব্বির খুশি হয়েছিল এবং সেই দিন থেকে বাবা টিফিন আর টলিরিস্কা করে স্কুলে যাওয়ার জন্য যে দু – তিন টাকা দিত তা বাঁচিয়ে সেই ভাঁড়ের মধ্যে ভরে রাখতো । ভাঁড় টা ভর্তি হয়ে গেলে সেটা ভেঙ্গে বাবা একটা সাইকেল কিনে দেবেন । আর তখন তাকে কষ্ট করে এত দূর পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হবে না । নতুন সাইকেলে চেপে যাবে ।

সাব্বির এর কয়েকদিন থেকে ভীষণ মন খারাপ । জুগজিত স্যার এর কথা সব সময় মনে পড়ে ।

মা যখন নামাজ পড়ে আল্লাহ এর কাছে দুয়া চান , তখন ছোট্ট সাব্বির মা এর পাশে হাত জড় করে বসে থাকে । মা একটু অবাক হয়ে বললেন , কি করছিস ?

সাব্বির মাকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে তুমি কি করছ ?

মা হেসে বলেন , আল্লাহ এর কাছে দুয়া চাইছি যাতে তোদের আল্লাহতালা ভালো রাখেন ।

সাব্বিরও ধীরে বলল , আমিও তো আল্লাহতালার কাছে দুয়া চাইছি ।

মা একটু হেসে বললেন , তুই কার জন্য চাইছিস ।

সাব্বির বলল , জানো মা , আমাদের স্কুলের একজন বাংলা্র স্যার আছেন । খুব ভালো পড়ান । আমাকেও খুব ভালো বাসেন । কিন্তু তাঁর কি একটা খুব বড় অসুখ করেছে । তিনি আর স্কুলে আসেন না । তাঁর জন্য দুয়া চাইছি । তিনি যেন ভালো হয়ে যান আর আবার স্কুলে আসেন ।

মা ছেলের কথা শুনে খুশি হয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন ।

কয়েক দিন পর সাব্বিরের বাবা আব্দুল বাবু ছেলেকে কাছে ডেকে বলেন, তোর ভাঁড় টা নিয়ে আয় । ভেঙ্গে দেখি কত টাকা হল । বাকি টাকা লাগিয়ে একটা সাইকেল কিনে দেব । এত দূর আর কষ্ট করে হেঁটে স্কুল যেতে হবে না । সাইকেল নিয়ে যাবি ।

বাবার কথা শুনে সাব্বিরের কোন আনন্দ তো হলই না , বরং ভয় পেয়ে গেল । আমতা আমতা করে বলল , আমি হেঁটেই যাব স্কুল । সাইকেল এর দরকার নেই ।

আব্দুল বাবু একটু অবাক হলেন , যে সাইকেল কেনার জন্য এত কান্না- কাটি , আর আজ যখন সাইকেল কিনে দেবেন বলছেন তখন ছেলে না বলছে ।

তিনি বললেন , আচ্ছা , মাটির ভাঁড় টা নিয়ে আয় ।

এবারে সাব্বির খুব ভয় পেয়ে গেল । আদুরে গলায় বলল , ভাঁড় টা নেই ।

তার মা রান্না ঘর থেকে সব কথা শুনছিলেন , দ্রুত বেরিয়ে এসে সাব্বির কে উদ্দেশ্য করে বললেন , ভাঁড় নেই মানে , কোথায় গেল ?

সাব্বির একদম চুপ ছিল । কোন কথা বলছিল না ।

তার মা যেখানে ভাঁড় রাখা ছিল সেখানে খুঁজে দেখলেন । কিন্তু পেলেন না । সিঁড়ির নীচে হটাত দেখলেন কিছু মাটির ভাঙ্গা টুকরো । টুকরো কয়েকটা কুড়িয়ে এনে রেগে চিৎকার করে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বললেন , এই তো মাটির ভাঁড়ের ভাঙ্গা । ভাঁড় ভেঙ্গে তোমার ছেলে টাকা বের করে নিয়েছে দেখ । কোথায় গেল টাকা । এক বছর থেকে তো টাকা জমাচ্ছিল । প্রায় ভর্তি হয়ে এসেছিল ভাঁড় টা ।

আব্দুল বাবু জিজ্ঞাসা করলেন , টাকা নিয়ে কি করলি ?

সাব্বির মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল ।

মা এবারে রেগে গিয়ে একটা ছড়ি দিয়ে সাব্বিরকে পেটাতে লাগল এবং জিজ্ঞাসা করতে লাগল টাকা কোথায় গেল ?

সাব্বির মায়ের হাতে মার খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল , ওটা তো আমার টাকা , আমি নিজে জমিয়েছিলাম । আমি খরচ করে দিয়েছি । আর আমার সাইকেলও দরকার নাই । আমি হেঁটেই স্কুলে যাব ।

আব্দুল বাবু সব শুনে স্ত্রীকে বারন করলেন , সাব্বির কে যেন আর না মারে ।

আব্দুল বাবু আদর করে বললেন , আচ্ছা , ঠিক আছে যাও । তোমার টাকা তুমি খরচ করেছ । কেউ আর বকবে না তোমায় । এখন খেলা করবে যাও ।

ছেলে যে খুব জেদি তা আব্দুল বাবু জানেন । সে যখন বলতে চাইছে না তখন যতই মারপিট করা হক না কেন সে বলবে না । অন্য ভাবে এর খোঁজ করতে হবে পায়সা গুলো নিয়ে সে কি করল । এত হিসাবী ছেলে বাজে খরচ তো করবে না ।

পর দিন আব্দুল বাবু দেখলেন দিনেশ স্কুল থেকে সাইকেল নিয়ে বাড়ী ফিরছে । তাকে দাঁড়াতে বললেন । দিনেশ সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়ালে আব্দুল বাবু জিজ্ঞাসা করলেন , সাব্বির এর কাছে তুমি বেশি টাকা দেখেছো । কোন কিছু কি সে স্কুলে কিনেছে ?

দিনেশ একটু ভেবে নিয়ে বলল , হ্যাঁ । ৬২৫ টাকা ছিল সাব্বিরের কাছে ।

এবার আব্দুল বাবু একটু কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন , সে টাকা কি করেছে তা কি তুমি জানো ?

সে মাথা নেড়ে জানে বলল ।

কি করেছে টাকা গুলো ?

দিনেশ বলল যে , আমাদের স্কুলের বাংলার স্যার জুগজিত নন্দ বাবুর একটা কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছে । তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন । অপারেশন হবে । আমাদের স্কুলের সকল ছাত্ররা মিলে টাকা সংগ্রহ করছে নিজেদের উদ্যোগে । যে যেমন অর্থ দিতে পারে সেই ফান্ডে । সেই টাকা ছাত্রদের পক্ষ থেকে স্যার এর অপারেশন এর খরচ এর জন্য দেওয়া হবে । আমরা সবাই ১০ টাকা ২০ টাকা করে দিয়েছি । কিন্তু সাব্বির একা ৬২৫ টাকা দিয়েছে । আমি দেখে জিজ্ঞাসা করলাম , এত টাকা কোথায় পেলি ? তখন সাব্বির বলেছিল , সেটা তার টাকা , সে নাকি জমিয়েছে ।

আব্দুল বাবু সব শুনে অবাক হলেন নিজের ছোট্ট সাব্বিরের তার শিক্ষক এর প্রতি ভালোবাসা দেখে ।

দিনেশ আঙ্গুল দেখিয়ে বলল , ঐ যে সাব্বির দূরে হেঁটে হেঁটে আসছে । আসলে তাকে খুব মারবেন । খুব বদমাশ ।

আব্দুল বাবু দূরে তাকিয়ে দেখলেন তাঁর ছোট্ট সাব্বির হেঁটে হেঁটে আসছে । পাশে আসতেই ক্লান্ত সাব্বিরকে কোলে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন।

আমার মিষ্টি ছেলে । এমন সুন্দর মনের ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার ।

তারপর দিন একটা নতুন বড় মাটির ভাঁড় নিয়ে এসে সাব্বিরের হাতে দিলেন । সাব্বির দেখে আনন্দে বাবা কে জড়িয়ে ধরল । তার চোখে আনন্দের অশ্রু ছিল । কান্না জড়ানো গলায় বলল , আমি আবার টাকা জমাবো বাবা , এবার টাকা জমলে সাইকেল কিনব । লাল রং এর সুন্দর ছোট হিরো সাইকেল ।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?