স্বামীজী নবীন রাষ্ট্রের দিশারী

6th July 2023 9:31 pm প্রবন্ধ
স্বামীজী নবীন রাষ্ট্রের দিশারী


প্ৰবন্ধ :-  "স্বামীজী নবীন রাষ্ট্রের দিশারী "
লেখক :-    ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী

                      💐💐💐💐💐
         à¦¸à§à¦¬à¦¾à¦®à§€ বিবেকানন্দের ব্রহ্মলীন দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধাপূর্ণ প্রণাম জানিয়ে নিবেদন করলাম সামান্য শ্রদ্ধাঞ্জলি স্বামীজীর আদর্শ এবং উপদেশ অনুকরণে।
   à¦œà¦—ৎগুরু পরমেশ্বর ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের মানব কল্যাণের জন্য সর্বধর্ম সমন্বয় করে সহজ সরল ভাষায় সর্বজীবে সমদর্শণ সমানাধিকার এবং মানবতাবাদী শিক্ষা " শিব জ্ঞানে জীবসেবা "। সরল ভাষায় সকল প্রাণীতে একই ঈশ্বরের অস্তিত্ব , জীবের সেবাই ঈশ্বরের সেবা বা পূজা। এই বিশ্বে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার , সমমূল্য। জাত - পাতের উর্দ্ধে উঠে মানুষের সম মূল্যায়ণ করে করতে হবে দেশের উন্নতি , দিতে হবে সর্বস্তরে সমানাধিকার। 
  সেই মন্ত্রে দীক্ষিত - সদগুরু পদে উৎসর্গীকৃত প্রাণ স্বামী বিবেকানন্দ , দেশকে দিয়েছিলেন দিশা ওনার বাণীর মাধ্যমে ভারতে গণতন্ত্র ঘোষণা হবার বহু বছর পূর্বে । 
       à¦¬à¦²à§‡à¦›à¦¿à¦²à§‡à¦¨ : -   à¦¦à§‡à¦¶ নেতাদের অথবা দেশ প্রশাসকদের অথবা দেশভক্তদের উদ্দেশ্যে - যে দিন তারা অনুভব করতে পারবে অথবা চিন্তামগ্ন হয়ে নিজের সর্বস্য এমনকি নিজের স্ত্রী - পুত্র সব ভুলে যাবে এই ভেবে কী দেশের কোটি কোটি জনতা কেউ অনাহারে অথবা অর্ধাহারে দিন কাটায় , তাদের উদ্ধার করতে মন উদ্বিঘ্ন হয়েছে , সেদিন জানবে যে "দেশভক্ত" হবার প্রথম সোপানে পা রেখেছ। সবার আগে দেশপ্রেমী হতে হবে , দেশের রীতিনীতির অথবা দেশের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ধর্ম - কর্ম করার আগে পেটের চিন্তা দূর করতে হবে , নচেৎ লেকচার ফেকচারে কোন বিশেষ ফল হবে না। সবার আগে দেশের লোকেদের অন্ন উপার্জনের উপায়ে শিক্ষা দাও ,পরে ভাগবত শোনাও।
   à¦¦à§‡à¦¶ প্রশাসককে সর্বদা প্রজাশক্তির কথা স্মরণে রাখতে হবে। প্রজাশক্তিকে অবজ্ঞা করা অথবা প্রজাশক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখলে প্রশাসন ধীরে ধীরে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকবে ,তা সে প্রশাসন বা নেতৃত্ব বিদ্যাবল অথবা বাহুবল বা ধনবলের সাহায্যে সঞ্চালন করা হোক না কেন। প্রজাশক্তিই সর্বাগ্রে , প্রজাহিতকে বাদ দিয়ে কোন প্রশাসনই সফল হয় না। শাসনের মূলতন্ত্র হচ্ছে দেশের জনতা। প্রশাসকের কাছে প্রজা। প্রজা মজবুত না হলে বা প্রজা কল্যাণের সাথে সাথে প্রজার উচিৎ মূল্যায়ণ না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। স্বাধীনতা মূল্যহীন হবে। করতে হবে শিক্ষার প্রসার ,দিতে হবে শিক্ষিত হবার অধিকার সর্বস্তরকে করতে হবে শিক্ষার আলোকে আলোকিত। তবেই সম্ভব দেশের সার্বাঙ্গীন যথার্থ উন্নয়ন , হবে উচিৎ মূল্যায়ণ স্বাধীনতার।
প্ৰতিব্যক্তি শিক্ষিত হোক। উপার্জনের উপায় জানুক। তবেই হবে আর্থিক বিকাশ , সার্বিক উন্নয়ন। শিক্ষাকে নিয়ে যেতে হবে চাষীর হাল পর্যন্ত্য , কারখানা , মজদুর ,চণ্ডালের দুয়ার পর্যন্ত্য। পন্ডিতের ছেলের থেকে চণ্ডালের ছেলের শিক্ষা পাওয়া বিশেষ জরুরী। কারন , ব্রাহ্মণের তো সংস্কার - শিক্ষা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত কিন্তু চণ্ডালের তা সম্ভব নয়। সেখানে শিক্ষাকে নিয়ে গিয়ে আধুনিক উন্নয়ন হলেই দেশের সার্বিক বিকাশ সম্ভব। শিক্ষাকে পৌঁছাতে হবে হেঁসেলঘর পর্যন্ত্য। নারী শিক্ষাই দেশের শিক্ষার মূল দুয়ার। প্রচলিত , স্থানীয় ভাষায় শিক্ষার প্রসার হওয়া উচিৎ। শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে বিচার এবং সংস্কৃতি দেওয়ার প্ৰচেষ্টা দরকার। যাতে সমাজ থেকে জাতিভেদের  বৈষম্য দুরীভূত হয়ে সমাজে সমতা আসতে পারে। 
চাই শক্তি। আর শক্তির অকুত ভান্ডার আছে কেবল মাত্র উপনিষদে। সমস্ত জগৎকে তেজস্বী ,শক্তিমান , বীর্যশালী করে সুপ্তপ্রাণকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা আছে স্রেফ উপনিষদে। একমাত্র উপনিষদই আহ্বান করে জাতি - ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায় , দুঃখী , দুর্বল , পদদলিত ,সর্ব মতাবলম্বীকে সাবলম্বী হয়ে মুক্ত হবার জন্য। বর্তমানে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন বা বিকাশের জন্য চাই উপনিষদ বা বেদের শিক্ষা।
                    জয়তু : স্বামীজী।।





Others News

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক


প্রবন্ধ :-  "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" 
লেখক :-  ডঃ .গোপাল চন্দ্র মুখার্জী
                         ***
     "জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ "
                             * 
   " স্বরাজ আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, যেটা আমি নিয়েই ছাড়ব।"  পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সিংহের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছিলেন এক নির্ভিক ভারতীয় সিংহ,যিনি একাধারে বিদ্বান, অর্থলোভমুক্ত, ত্যাগী, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, হিন্দু রাষ্ট্রবাদের জনক, লোকসেবক শক্তিমান পুরুষ, যাঁকে সর্বলোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" বলে সম্বোধন করে, তিনি হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (আসল নাম কেশব গঙ্গাধর তিলক, বিবাহের পরে ওনার স্ত্রীর বংশানুসারে " কেশব গঙ্গাধর "  নামের পরিবর্তিত হয়ে "বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে পরিচিত হলেন)। মহারাষ্ট্রের  চিক্কন গ্রামে ২৩/০৭/১৮৫৬  সালে ওনার জন্ম হয় এবং ০১/০৮/১৯২০ সালে বোম্বাই এ বর্তমানে ( মুম্বাই) ওনার দেহত্যাগ হয়।  
        ডীকান কলেজ থেকে বি.এ.পাস করার পরে উনি গভর্নমেন্ট " ল " কলেজ ( ইউনিভার্সিটী অফ বোম্বাই (মুম্বাই) থেকে  "ল" পাস করেন, কিন্তু, অর্থ লোভমুক্ত বাল গঙ্গাধর তিলক, যিনি , নিজেকে সমাজ  কল্যাণে সমর্পিত করেছেন, তিনি " ল " পাস করেও আদালতে ওকালতি না করে শিক্ষার প্ৰসারের জন্য স্কুলে শিক্ষকের চাকুরীতে যোগ দিলেন এবং ১৮৮০ সালে স্থাপনা করলেন " ন্যু ইংলীশ স্কুলের" । কিছু বছর পরে স্থাপনা করলেন    " ফারগুইজন " কলেজের। বিদ্বান, ত্যাগী,  সরল,  নিঃস্বার্থ পরোপকারে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে সমর্পিত নিরলস নির্ভিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়কে মহারাষ্টের লোকে সম্মানের সঙ্গে  "লোকমান্য" নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করল। সেই থেকে উনি "লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক" নামে ভারতে তথা  বিশ্বে পরিচিত হলেন। অসাধারণ সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা ছিল লোকমান্যের! স্বাধীনতার জন্য চলছে আন্দোলন কে তীব্র করার জন্য জনমত এবং  জনচেতনাকে জাগিয়ে তুলে সংবাদ আদান প্রদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচলিত করেছিলেন " গনেশ উৎসব" এর । 
  ভারতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র জনান্দোলন এবং আলোচনা করার জন্য ইংরেজ সরকার ওনার উপর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ লাগিয়ে ৬ বছরের জন্য দেশের বাইরে করার আদেশ দিয়ে বর্মার মান্ডালে জেলে পাঠিয়ে দিল,  কিন্তু, কর্মতৎপর লোকমান্য তিলক মহাশয় জেলে বন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন " গীতা রহস্য " এর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে যখন উনি "গীতা রহস্য" এর প্রকাশণ করেছিলেন তখন ভীষণ জন আলোরণ তৈরী হয় সম্পূর্ণ দেশে। 
     à¦¨à¦¿à¦°à§à¦­à¦¿à¦• সাংবাদিক লোকমান্য তিলক দুটি সংবাদ পত্রের প্রকাশণ করেছিলেন - একটি ইংরাজীতে       " মারাঠা"  নামে এবং অপরটি মারাঠী ভাষায় "দৈনিক কেশরী" নামে। প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলির মাধ্যমে লোকমান্য তীব্রভাবে ইংরেজ শাসনের নিন্দা এবং সমালোচনা শুরু করেছিলেন, যার জন্য ওনাকে প্রায়ই জেলে যেতে হত। স্বায়ত্ব বা সুশাসনের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে ১৯১৬ - à§§à§® সালে  গঠণ করলেন "অল ইন্ডিয়া রূল লীগের"। ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সমর্থক তিলক সম্পূর্ণভাবে গান্ধীজীর অসহযোগ অন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, এনী বসন্ত, মহম্মদ আলী জীন্নাহ  ইত্যাদি মহান ব্যাক্তিত্বের সংযুক্ত আন্দোলনে বিচলিত হয়েছিল ইংরেজ প্রশাসন। সম্পূর্ণ ভারতে তখনকার দিনের একটা বহুল প্রচলিত শ্লোগান ছিল "লাল বাল পাল "। বিখ্যাত তিন মহান ব্যাক্তিত্ব !
  ভারত মায়ের মহান সন্তান লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক। ওনার নাম আজ ও স্বাধীন ভারতবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে । 
  লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহাশয়ের শ্রীচরনে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ।