দিন বদলায় - মানুষ বদলায় / তারিফ আলম

3rd September 2023 10:27 am তারিফ আলম
দিন বদলায় - মানুষ বদলায় / তারিফ আলম


গল্প - " দিন বদলায় - মানুষ বদলায় " 

লেখা - তারিফ আলম 

ইস , পকেটে তো মাত্র ১২০ টাকা আছে । এদিকে ২২৫ টাকার মত মায়ের জন্য ওষুধ কেনা হয়ে গিয়েছে । সরিস ওষুধ দোকানি অজিত বাবুকে ধীর কণ্ঠে বলল ,” আমার কাছে এখন এত টাকা নেই । এই ওষুধ গুলো এখন রাখুন , আমি বাড়ী থেকে টাকা নিয়ে এসে কাল কে নিয়ে যাব “।

অজিত বাবু এক গাল হেসে নিয়ে বললেন , “সে কি কথা , টাকার চিন্তা করতে হবে না , ওষুধ গুলো নিয়ে যাও , টাকা যখন ইচ্ছা দেবে “।

সরিস এই কথা গুলো অজিত বাবুর কাছ থেকে শুনে একটু অবাক হল । অবাক হওয়ার কারন আছে । তার বাবার যখন শরীর খারাপ তখন এই দোকানে থেকেই ওষুধ নিতে এসে মাত্র ২০ টাকা কম থাকার জন্য আবার বাড়ী গিয়ে টাকা নিয়ে এসে দিয়ে তারপর বাবার জন্য ওষুধ নিয়ে গিয়েছিল । তবে সে দিন তার বাবা অবশ্য বাঁচে নি । আর আজ তেমন জরুরীও নয় । কয়েক দিনের ওষুধ এখনো বাড়ীতে আছে মায়ের জন্য ।

“ আপনি ওষুধ গুলো রাখুন , আমি পরে এসে নিয়ে যাব” – এই বলে সরিস দোকান থেকে বেরিয়ে সাইকেল টা নিয়ে দ্রুত রওনা হল । আজ আবার টিউশন পড়াতে যেতে দেরি হয়ে গেল । গ্রামের দুটো বাড়ীতে টিউশন পড়ায় । গত দু দিন কামাই হয়ে গিয়েছে । মেদিনীপুর এ এক বন্ধুর মেসে ছিল এই দু দিন একটা বিশেষ কাজে । দুপুরের ট্রেনে বেলদা স্টেশনে পৌঁছে স্ট্যান্ডে রাখা সাইকেল টা নিয়ে সোজা তার আকন্দা গ্রামে । গ্রামে ঢুকতেই অজিত বাবুর ওষুধ দোকান । তারপর গ্রামের মধ্যে দু টো বাড়ীতে গিয়ে টিউশন পড়িয়ে একদম বাড়ী ফিরবে ।

আজ সরিসের কেমন যেন অন্য দিন গুলোর চেয়ে একটু আলাদা লাগছে সব কিছু । টিউশন পড়াতে বাড়ীতে ঢুকতেই মিনু বউদি হাসি মুখে অভ্যর্থনা জানালো , কিন্তু অন্য দিন গুলতে দেরি করে আসার জন্য অপমান জনক কথা শুনতে হত মিনু বউদির কাছ থেকে । কোন দিন যে এক কাপ চাও দেয় নি আর আজ পায়েস এনে খেতে দিল ।

আর আজিম বাবুর বাড়ীতে টিউশন পড়াতে গিয়ে তো আরও অবাক হল যখন দেখল – তিন মাস এর টিউশন এর বাকি টাকা গুলো একসাথে সব দিয়ে দিল এবং বাজার থেকে মিষ্টি শিঙ্গাড়া নিয়ে এসে খাওয়াল ।

বাড়ী ফেরার পথের মোড়ে চা দোকান বসে আড্ডা দেওয়া গ্রামের গন্য - মান্য মানুষ গুলো আজ কে সরিস কে দেখে কেমন আছে জিজ্ঞাসা করলো , চা খাওয়ার জন্য আমন্ত্রনও জানালো । অথচ অন্য দিন গুলোতে প্রতিদিন এই চা দোকানের পাশ দিয়ে যায় , কেউ ডেকে কিছু বলে না কথা , চা খাওয়ার আমন্ত্রন তো দূরের কথা ।

খুব অবাক লাগছে আজকে তার আশে- পাশের চেনা- জানা মানুষ গুলোকে দেখে । সবাই কেমন যেন বদলে গিয়েছে ।

বাড়ীতে পৌঁছে সরিস সাইকেল টা রেখে মাকে গিয়ে প্রণাম করে । মা ছেলের কপালে চুমুখান । মা অনিলা দেবী ছেলেকে বলেন , “তুই হাত মুখ ধুয়ে আয় । বিপিন বাবু মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন , একটু মিষ্টি আর মুড়ি খেয়ে নে “।

সরিস অবাক হয়ে গেল । বিপিন বাবু তাদের গ্রামের সব চেয়ে ধনী মানুষ । তিনি কেন হটাত এই গরীব এর বাড়ীতে এলেন , আবার মিষ্টি নিয়ে !

মা কে জিজ্ঞাসা করতে জানা গেল , বিপিন বাবু তার একমাত্র সুন্দরী মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে আসেছিলেন সরিস এর জন্য । বিয়েতে একটা মারুতিও দেবেন বলেছে্ন ।

সরিস কলে হাত - মুখ ধুতে গিয়ে দেখল শিউলি দাঁড়িয়ে আছে । সরিস কে দেখেই ছুটে পালিয়ে গেল । শিউলির বাড়ী তাদের বাড়ীর পাশেই । ছোট বেলাতেই মা হারিয়েছিল । বাড়ীর সব কাজ সে ছোট থেকেই করে । পড়াশুনা বেশি করে নি । খুব গরীব । তার বাবা খেতমজুরের কাজ করে ।

সরিস বাড়ীতে ঢুকতেই মা মিষ্টি নিয়ে এলেন । সরিস আজ টিউশনে অনেক কিছু খেয়েছে । তার খিদে নেই । সে মায়ের গলা জড়িয়ে আদুরে গলায় বলল “ মা , তুমি কি কথা টা সবাই কে বলে দিয়েছ ?

অনিলা দেবী একটু চুপ থেকে তারপর বললেন , “তুই কথা টা কাউকে এখন বলতে মানা করেছিলি , তাই কাউকে বলি নি , শুধু পাশের বাড়ীর কুসুম দিদি জিজ্ঞাসা করতে তাকে বলে ফেলেছিলাম যে , আমার ছেলে সরিস এস এস সি এর একাদশ – দ্বাদশ পাশ করে চাকরি পেয়ে গিয়েছে । সে যে পুরো গ্রাম কে বলে দেবে তা ভাবতে পারি নি” ।

সরিস মাকে মৃদু কণ্ঠে বলে , “ মা , আজকে গ্রামে প্রবেশের পর থেকে সবাই যেন কেমন বদলে গিয়েছে , গরীব আর বেকার বলে যারা আমাকে দূর ছিঃ করত , তারা আজ কত সম্মান দিচ্ছে । যারা কোন দিন খোঁজও নেই নি , তারা আজ কেমন আছি ডেকে জিজ্ঞাসা করছে । আর বিপিন বাবুর কথা বলছ , যে একসময় বাবার দেনার কারনে আমাদের চাষ জমি দখল করে নিয়েছিলেন , যারা তাদের কোন অনুষ্ঠানে আমাদের নিমন্ত্রনও করতেন না , আমাকে দেখলে নাক সিটকে দূর দিয়ে চলে যেতেন , আজ তিনি তাঁর একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য ছুটে এসেছেন । এ সবই আমার চাকরি পাওয়ার কারনে হচ্ছে । তা না হলে এই বিপিন বাবু কোন দিনই তাঁর মেয়ের সম্বন্ধ নিয়ে আসতেন না আমার জন্য । এরা আমাকে ভালোবাসে না মা , এরা আমার চাকরিকে ভালোবাসে । এখন আমি হাইস্কুল এর মাস্টার হয়ে গিয়েছি , তাই তারা এত খাতির করছে ।

কিন্তু একটু চিন্তা করো মা , যখন আমি বেকার ছিলাম তখন সবাই অবহেলা করতো , পথে –ঘাটে গ্রামের মানুষজন দের কাছ থেকে অপদার্থ , আরও কত কটু কথা শুনতে হয়েছে । সেই সময় আমি যখন খুব কষ্ট পেতাম মনে মনে তখন শিউলিই আমাকে সাহস যোগাত । সেই বলত , “তুমি একদিন চাকরি পাবেই । মন দিয়ে পড়াশুনা করে যাও “ ।

মা আমার যখন এস এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট বেরায় আর যখন ইন্টারভিউ দিতে যাই , সেই দিন গুলতে শিউলি উপোষ থেকে আমার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিল । ভালো সময়ে তো সকলে ছুটে আসে ,কিন্তু খারাপ সময়ে যে পাশে থাকে সেই তো আসল মানুষ যে আমাকে ভালোবাসে । বিপিন বাবুর সুন্দরী মেয়ে কে আমি কি করে বিয়ে করবো মা শিউলিকে ছেড়ে , যখন আমি কিছুই ছিলাম না তখন সে আমাকে ভালবেসেছে । এখন আমার সব কিছু আছে বলে কি তাকে ভুলে যাব “?

অনিলা দেবী ছেলের কথা শুনে ,” মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন – তুই সেই কাজ কর যেটা তোর মন চায় “।

মায়ের কথা শুনে সরিস বাড়ী থেকে বেরিয়ে শিউলির বাড়ীতে গিয়ে দেখে সে ওখানে নেই । কোথায় যেতে পারে তা সরিস এর জানা । মাঠের ধরে মন্দিরের পাশে যেতেই দেখে শিউলি বট গাছের নীচে মাথা নিচু করে বসে আছে । পিছন থেকে গিয়ে আওয়াজ করে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করে সরিস । কিন্তু অন্য দিনের মত আজ চমকাল না সে । শুধু একবার মুখ তুলে চাইল । শিউলির চোখে জল ছিল । সে কাঁদছিল ।

সরিস অবাক হয়ে জিজ্ঞসা করে , কেন কাঁদছিস রে তুই ?

শিউলি কান্না ভেজা শ্বরে বলে ,” তুমি তো চাকরি পেয়ে গিয়েছ , এবার বিপিন বাবুর সুন্দরী মেয়ে কে বিয়ে করে নেবে যাও “।

সরিস বুঝতে পারে এবার শিউলির কান্নার আসল কারন । সরিস শিউলিকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলে , আমি যখন বেকার ছিলাম তখন আমাকে কেউ পছন্দ করতো না , শুধু তুই পছন্দ করতিস । যখন কেউ ভালোবাসতো না , শুধু তুই ভালবাসতিস । তুমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতিস যাতে আমার চাকরি টা হয় । আর আজ যখন আমি চাকরি পেয়েছি তখন কি করে তোকে ভুলে যাব বল । আমি কি বেইমান ?

শিউলি কথা গুলো শুনে সরিসের বুকে মাথা রেখে আবার জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করে দেয় । তবে এই বারের কান্না টা যে আনন্দের তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

..............................সমাপ্ত ...........................।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?