বন্যা ( ছোটগল্প ) / তারিফ আলম

3rd September 2023 11:14 am তারিফ আলম
বন্যা ( ছোটগল্প ) / তারিফ আলম


গল্প -- বন্যা 

লেখা -- তারিফ আলম 

 

মা মা মা ......গো

রবির আর্তনাদে বাড়ীর সকলে ছুটে গেল ছাদের কোনে যেখানে রবি পড়ে চিৎকার করছিল , বাবা রতন দৌড়ে গিয়ে ৯ বছরের তার একমাত্র ছেলেকে কোলে তুলে নিল । ছেলের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল । পাশে চোখ পড়তে ভয়ে সেও আর্তনাদ করে উঠলো ......সাপ , চন্দ্রবোড়া সাপ । ছেলের পায়ে সাপের ছোবলের দাগ । সাপটা দ্রুত ছাদ বেয়ে বন্যার জলে লাফ দিয়ে চলে গেল ।

চার দিন থেকে সমানে বৃষ্টি হয়ে চলেছে । কিন্তু গতকাল রাতে নদীর বাঁধ টা যে ভেঙে যাবে তা কেউই ভাবতে পারে নি । হু হু করে কাঁসাই নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়েছে । জলের প্রবল স্রোতে ঘর – বাড়ী সব প্রায় ভেঙে গিয়েছে । গরু ছাগল সহ কত যে জীবজন্তু বানের জলে ভেসে গিয়েছে কে জানে । গ্রামের গরীব মানুষ গুলো দুটো উঁচু ঢিপির উপর অবস্থিত শিব মন্দির আর মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ।

রতনের স্ত্রী সীমা ছেলে রবিকে বিষাক্ত সাপে ছোবল দিয়েছে জেনে চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিলেন । বান্যায় চারিদিক ডুবে গিয়েছে তার উপরে সমানে বৃষ্টি হয়ে চলেছে । কাঁসাই নদী পেরালে হাসপাতাল আছে । কিন্তু এই বন্যার সময় কি ভাবে নিয়ে যাওয়া যাবে ছেলেকে । রতন আর মন্দিরে উপস্থিত সকলে নিতাই মাঝির কাছে গিয়ে সাহায্য চাইল যাতে সে তার নৌকাতে রবিকে নিয়ে কাঁসাই নদী পার করে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেয় । নিতাই মাঝি কিছুতেই যাবে না । সে বলল , নদীতে স্রোত প্রবল , তার উপরে ঝড় বৃষ্টি , তাছাড়া নদীর স্রোতে ঘর – বাড়ীর ভাঙ্গা ছাদ , গাছা – পালা ভেসে আসছে । নৌকোতে ধাক্কা লাগলেই উল্টে যাবে । তখন আমরাও মরবো ‘।

রবির মা এসে নিতাই এর পা ধরে কাঁদতে লাগলেন যাতে তার ছেলে কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু কোন লাভ হল না । নিতাই মাঝি কিছুতেই রাজী হল না ।

কোন একজন বলল , গ্রামে আর এক জনের নৌকা আছে , সে করিম আলি । সে কি যাবে ? ...........করিম এর কথা মনে পড়তেই . রতন এর মন বিষাদে ভরে গেল । সে তো যাবে না ।

******* **** ******* ********* ************* *******

প্রতাপপুর গ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে হিন্দু- মুসলিম একসাথে বসবাস করে আসছে । তাদের মধ্যে কোন দিন ধর্ম নিয়ে বিবাদ দেখা দেয় নি । বিভিন্ন পালা পার্বণে একে অপরের সঙ্গে সুখ- দুঃখ ভাগ করে নেয় । মুদী দোকানী রতন দাস আর জেলে করিম আলির যেমন বন্ধুত্ব , তাদের ছেলে – মেয়ের মধ্যেও তেমনি বন্ধুত্ব । করিম আলির ছেলে নজরুল আর রতন দাস এর মেয়ে সোনালী দু জনেই ক্লাস টেন এ পড়ে । এক সাথে টিউশন যায় । নজরুল ক্লাস এর ফাস্ট বয় , সোনালীও পড়াশুনায় খুব ভালো ।

সবকিছুই ঠিক চলছিল । কিন্তু কিছুদিন হল কিছু গেরুয়া পোশাক ধারী লোকজন কোথা থেকে গ্রামে এসে গ্রামের মন্দিরে ঘাটি গেড়েছে আর গ্রামের বেকার যুবক হিন্দু ছেলেদের জড় করে হিন্দুত্বের পাঠ পড়াচ্ছে । তাদের খারাপ দশার জন্য নাকি দায়ী গ্রামের মুসলিমরা । তার উপর গতকাল রাতে নাকি মন্দিরে একটা মাংসের টুকরো কেউ ফেলে গিয়েছে । গেরুয়া বাহিনী প্রচার করছে ......ওটা নাকি গো মাংসের টুকরো । মুসলিমরা নাকি এটা করেছে । চারিদিকে একটা থমথমে ভাব । গ্রামের হিন্দু – মুসলিম রা এখন একে অপরকে এড়িয়ে চলছে ।

জেলে করিম আলির ছেলে নজরুল কাঁধে বই ব্যাগ টা নিয়ে মা কে টিউশন যাচ্ছি বলে সাইকেল টা নিয়ে বের হল । পথে সোনালী এর সাথে দেখা । সেও টিউশন যাচ্ছে । তার সাইকেলটা খারাপ হয়ে গিয়েছে বলে আজ হেঁটে যাচ্ছিল । পথে নজরুল কে দেখে বলল , আমাকে একটু তোর সাইকেলে নিয়ে যাবি ? হেঁটে পৌছতে টিউশনে দেরি হয়ে যাবে । স্যার বকবেন ।

নজরুল প্রথমে দ্বিধাবোধ করলেও পরে বান্ধবীকে সাইকেলে বসিয়ে টিউশন স্যার এর বাড়ীর দিকে রওনা দিল । মোড় এর কাছে কিছু গেরুয়া পোশাকধারী ছেলেরা বসেছিল । তারা নজরুল আর সোনালীকে সাইকেল আসতে দেখে পথ রুখে দাঁড়াল ।

হিন্দু বাড়ীর মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস রে শয়তান । লাভ জেহাদ করতে চাস । নজরুল কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তারা তাকে ধরে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাতে লাগলো । সোনালী নজরুল কে বাঁচাতে চেয়েও পারলো না । তার কথা কেউ শুনছিল না । মুসলমান ছেলের সাইকেলে বসার জন্য তাকেও অনেক গালাগাল করছিল তারা ।

করিম আলি মাছ ধরে নদী থেকে ফিরে এসে শুনলেন তার ছেলে গুরুতর জখম হয়ে শহরে হাসপাতালে ভর্তি আছে । একটা হাত আর একটা পা ভেঙে গিয়েছে ।

গ্রামে কোথা থেকে কিছু বহিরাগত টুপি বালা লোকের অগমন ঘটেছে । তারা নজরুল এর উপর আক্রমনের জন্য হিন্দুদের দায়ী করে প্রতিশোধ নিতে চায় । তাই তারা মিছিল করে গিয়ে রাতে রতন দাস এর মুদী দোকান এ আগুন লাগিয়ে দেয়। আর এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামে হিন্দু – মুসলিম দের মধ্যে দাঙ্গা লাগে যায় । বহিরাগত গৈরিক বাহিনী বেঁছে বেঁছে মুসলিমদের দোকান আর ঘরে আগুন লাগায় আর বহিরাগত টুপি বাহিনী বেঁছে বেঁছে হিন্দুদের বাড়ী আর দোকানে লুঠ করে আর আগুন লাগায় । গ্রামের সব কিছু কয়েক দিনে যেন লন্ড ভণ্ড করে দিল ধর্মের কারবারিরা ।

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গ্রামে পুলিশ টহল দিতে শুরু করেছে । কিছু রাজনৈতিক নেতা – নেত্রী নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তুলার জন্য গ্রামে এসে সভা করে যাচ্ছে ।

কিন্তু যেই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যায় গ্রামের ঘর বাড়ী সব ডুবে গিয়েছে , মানুষ হাহাকার করছে একটু পানীয় জল আর খাবার এর জন্য তখন এই সব নেতা মন্ত্রী আর বহিরাগত গেরুয়া বাহিনী আর টুপি বাহিনী এর চিহ্নও খুঁজে পাওয়া গেল না । বিপদ এর গন্ধ পেয়ে তারা আগেই কখন চলে গিয়েছে গ্রাম ছেড়ে তা কেউ টেরও পায় নি ।

----------------------------------

রতন দাস মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে । ছেলে রবির অবস্থা খুব খারাপ । দ্রুত চিকিৎসা না হলে মারা যাবে । বউ আর বড় মেয়ে সোনালী অঝোরে কেঁদে চলেছে । আশেপাশে লোকগুলো অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । পুরো গ্রাম বন্যার জলে মগ্ন । নৌকা ছাড়া আসা – যাওয়ার কোন উপায় নাই ।

এমন সময় উপস্থিত একজন চিৎকার করে বলল , ঐ দেখ করিম আলি তার নৌকা নিয়ে এদিকেই আসছে । সকলে উৎসুক হয়ে দেখল । সত্যি তো ।

করিম আলি তার নৌকা মন্দিরের পাশে লাগিয়ে দ্রুত রতন কে বলল ছেলেকে নিয়ে আসতে তার নৌকায় । রতন করিম কে দেখে অবাক হল । করিমকে কেউ ফোনে করে জানিয়েছিল সাপে কাটার কথা । খবর টা শুনেই দেরি না করে নিজের নৌকা নিয়ে চলে এসেছে ।

যাই হোক, আর দেরি না করে রতন রবি কে কোলে তুলে নিয়ে করিম আলির নৌকাতে গিয়ে উঠলো । ঝড় বৃষ্টির কে উপেক্ষা করেই খুব সাবধানে অথচ দ্রুত নৌকা বাইতে লাগলো করিম আলি । অনেক কষ্টে নদী পেরিয়ে শহরে এসে হাসপাতালে পৌঁছল তারা । হাসপাতালে ডাক্তার বাবুরা দ্রুত চিকিৎসা করা শুরু করে দিলেন । সকালে রবির জ্ঞান ফিরল । রতন ডাক্তার বাবুর কাছে গিয়ে হাত জড় করে বলল , আপনি দেবতা , আমার একমাত্রে ছেলেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন । শুনে ডাক্তার বাবু বললেন , আমি নিজের কাজ টুকু করেছি মাত্র । কিন্তু রোগীকে যদি আনতে আর একটু দেরি হয়ে যেত তাহলে তাকে বাঁচানো যেত না ।

রতন শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখল অধীর আগ্রহে করিম দাঁড়িয়ে আছে । রতন কে দেখে করিম জিজ্ঞাসা করলো , রবি ভালো আছে তো ?

রতন মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল । তারপর দু হাতে করিম কে জড়িয়ে ধরল কাঁদতে লাগলো আর বলতে লাগলো , তুই ছিলি বলে আজ আমার ছেলে বেঁচে গেল রে করিম । করিম এর চোখেও জল এসে গেল । দুজন দুজন কে ধরে সুখের কান্না কাঁদতে লাগলো । তাদের মধ্যে এখন আর কোন বিভেদ নেই । সব ধর্মের বেড়াজাল ভেঙে মনুষ্যত্ব ধর্মের গলায় গলায় মিলন হল ।





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?