শরীর ও মন ( গল্প ) / তারিফ আলম

3rd September 2023 11:41 am তারিফ আলম
শরীর ও মন ( গল্প ) / তারিফ আলম


শরীর ও মন
লেখা – তারিফ আলম


মায়ের জন্য জল গরম করতে বসিয়ে দিয়ে তিন্নি আনন্দবাজার পত্রিকার পাতা ওলটাতে লাগলো । সকালে একটু নিয়ম করে খবর কাগজ এ চোখ বোলানো অভ্যাস তার । তারপর নিয়ম করে কিছুক্ষন যোগ ব্যায়াম করা । স্থূল শরীর তার জীবনের কাল । ছোট থেকেই নিজের মোটা শরীর নিয়ে হাজারো কু কথা শুনতে হয়েছে । হাসা - হাসির পাত্রী হয়েছে সে । কিন্তু রোগা হওয়ার চেষ্টা কম করে নি । সারাদিন প্রায় উপোষ করে থাকতো , দুপুরে এক চামচ ভাত আর রাতে একটা রুটি । ফাস্ট ফুড প্রায় খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে । নিয়মিত যোগাসন করে । তবুও উপরওয়ালার এর দয়া হচ্ছে না , শরীর টার ওজন কিছুতেই কমছে না ।
খবর কাগজ এর এক স্থানে চোখ পড়তেই চোখ আটকে গেল তিন্নির । একটা ছোট বিজ্ঞাপন “ কিডনি চাই – আমার ছেলের এক্সিডেন্ট এ দুটো কিডনি ই নষ্ট হয়ে গিয়েছে । যদি কেউ দয়াকরে একটি কিডনি দান করেন তাহলে আমার ছেলের জীবন বেঁচে যেত । যোগাযোগ – দিলদার খান , গ্রাম - কসবা আসন্দা , জেলা – পশ্চিম মেদিনীপুর ।“
খবর টা পড়ে কেমন যেন গম্ভির হয়ে গেল ...... অজানা এক ভয়ে সারা শরীর কাঁপতে লাগলো তার । চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো ।
এমন সময় তিন্নির মা সাবেরা বিবি রুমে ঢুকে তিন্নি কে অভাবে বসে কাঁদতে দেখে অবাক হলেন না । কারন তিন্নি প্রায়ই একলা বসে বসে যখন তখন কাঁদতে থাকে । শুধু বললেন , কেন তুই সব সময় কাঁদিস , যে তোকে ঘৃণা করে , তার জন্য কষ্ট পাস কেন ? যা স্নান করে নিবি যা , স্কুল যাওয়ার সময় হয়ে গেল তো । আল্লাতালাহ তোর প্রাইমারি স্কুলের চাকরিটা জুটিয়ে দিয়েছিলেন বলে তোর বাবার মৃত্যুর পর আমাদের মা – মেয়ের সংসার টা চলে যাচ্ছে । আর দেরি করিস না ।
তিন্নি মাকে শুধু বলল , আজ একটু মেদিনীপুর যেতে হবে , স্কুল যাওয়া হবে না । আমার এক বন্ধু অসুস্থ , নার্সিংহোমে ভর্তি আছি । এই বলে তিন্নি স্নান না করেই কাপড় পরে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল মেদিনীপুর এর উদ্দেশ্য ।
মেদিনীপুর বাসে করে পৌছাতে দুপুর হয়ে গেল । বান্ধবী জিনিয়া আগে থেকেই বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিল । ফোন করে আগে থেকেই বলে রেখেছিল তিন্নি । পেশায় নার্স জিনিয়া হটাত বন্ধুর মেদিনীপুর আসার কারন জিজ্ঞাসা করলে , তিন্নি বলল আগে তোর নার্সিংহোম চল । তারপর বলছি সব ।
নার্সিংহোম এ পৌঁছে তিন্নি খোঁজ করতে লাগলো , সিরাজ নামের কেউ ভর্তি আছে কিনা । জিনিয়া তিন্নি কে পাগলের মতো ছুটা ছুটি করতে দেখে খুব অবাক হল ।
হটাত একজন বয়স্ক লোক কে আসতে দেখে তিন্নি দ্রুত দরজার আড়ালে লুকিয়ে পড়ল । জিনিয়া খুব অবাক হল , লোকটা চলে যেতেই তিন্নি ছুটে গিয়ে ৩২ নাম্বার রুম এর দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো । জিনিয়াও তার সাথে প্রবেশ করলো । ব্যাডে একজন যুবক অচৈতন্য অবস্থায় শুয়ে আছে । মুখে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র বসানো । সেলায়িন চলছে ।
তিন্নি দেখে কাঁদতে শুরু করে দিল । জিনিয়া ওখানেই নার্স এর চাকরি করে । এই ছেলেটি চার দিন আগে বাইক এক্সিডেন্ট এর পর এখানে ভর্তি হয়েছে । মাথায় হেলমেট থাকলেও কোমরে এমন আঘাত লেগেছে যে , দুটো কিডনিই প্রায় বিকল । বাঁচার আসা নেই বললেই চলে ।
জিনিয়া তিনি কে ধরে নিজের কেবিনে নিয়ে গেল । কেঁদে কেঁদে তিন্নি চোখ দুটো লাল করে নিয়েছে । মুখে একটু জল দিয়ে তিন্নি কে পাশে বসিয়ে জড়িয়ে ধরে জিনিয়া জিজ্ঞাসা করলো , ছেলেটি কে ?
*****************
অনেক সুন্দর করে সেজেসে আজ ...... আজ যে তিন্নি রউসান সুলতানা এর বিয়ে । এত তাড়াতাড়ি সব হয়ে গেল যে তিন্নি তার সকল বন্ধুদের আমন্ত্রনও জানাতে পারলো না । ছেলে নিজে অবশ্য দেখতে আসে নি , তার বাবা দিলদার আহমেদ খান আর মা বোন রা ---সবাই তিন্নি কে দেখতে এসেছিল । তিন্নির ওজন একটু বেশি হলে কি হবে , ফর্সা এবং দেখতে বেশ ভালো । ছেলে তিন্নির ফটো দেখে বলেছে যে , বাবা মা এর পছন্দই তার পছন্দ । ছেলে সিরাজ আহমেদ একটি ছোট কোম্পানিতে সুপারভাইজার এর কাজ করে । দেখতে কালো এবং তিন্নি থেকে পড়াশুনাও অনেক কম । তাতে তিন্নির কিছু এসে যায় না । মোটা বলে বাবা তিন্নির বিয়ে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলেন । অনেক ছেলে দেখতে এসে শুধুমাত্র মোটার কারনে পছন্দ করছিল না । কিন্তু এখন তিনি খুব আনন্দিত , মরার পূর্বে মেয়ের বিয়ে টা দেখে যেতে পারছেন ।
বিয়েটা খুব ধুম ধাম করেই হল । তিন্নির বাবা দান সামগ্রী দেওয়ার ক্ষেত্রে বিন্দু মাত্র কার্পণ্য করেন নি । সিরাজদের ছোট্ট ঘরে দাম সামগ্রী রাখার জায়গাই পাওয়া যাচ্ছিল না । লোকে এত দান সামগ্রী দেখে পিছনে বলতে লাগলো , টাকা আর দান সামগ্রীর জন্য মোটা মেয়েকে বিয়ে করে এনেছে । ছোট একটা মেয়ে এসে সে কথা তিন্নি কে বলল । তিন্নির নিজের দুর্বলতার কথা জানে , তাই বাইরের লোক কি বলল তাতে তার কোন যায় -আসে না । কিন্তু বাসর রাতেই যখন সিরাজ আফসোস করে বলল , “ফটো তে দেখে বিয়ে করা তার ভুল হয়ে গেল । বাবা মা তাকে ঠকিয়ে দিল “ --- শুনে তিন্নির ভীষণ কষ্ট হয়েছিল । সারারাত কেঁদেছিল ।
সিরাজের অবহেলা সত্ত্বেও তিন্নি স্বামীকে মনে প্রানে ভালোবাসে । ঘরের সমস্ত কাজ সে করে । আর বেশির ভাগ সময় না খেয়ে থেকে নিজের ওজন কমানোর চেষ্টা করে ।
কিন্তু বিয়ের এক মাস যেতে না যেতে সিরাজ যেন কেমন অন্য রকম হয়ে গেল । কারনে , বিনা কারনে তিন্নিকে অপমান করতে লাগলো । একদিন ঈদ এর দিন সিরাজের কিছু বন্ধু বাড়ীতে খেতে এল । সিরাজ বন্ধুদের সামনে তিন্নিকে আসতে মানা করেছিল । কিন্তু কিছু নিয়ে আসতে শাশুড়ির আদেশে তিন্নি তাদের সামনে গেলে বন্ধুরা তিন্নিকে দেখে হাসা – হাসি করতে লাগলো । সিরাজের খুব রাগ হল । বন্ধুরা যেতেই সিরাজ তিন্নির গালে সজোরে চড় মারল আর ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলল । তিন্নির গায়ে আজ পর্যন্ত তার বাবা মাও কোন দিন হাত তুলেনি । রাগে দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে তিনি সেই দিন বাপের বাড়ী চলে এসেছিল ।
ভেবেছিল সিরাজ এর রাগ কমলে সে এসে তাকে আবার মানিয়ে নিয়ে যাবে । কিন্তু দিন যায় ,সপ্তাহ যায় , মাস যায় , সিরাজ আর তাকে নিতে আসে না । একদিন এক চিঠি এল – সিরাজ ডিভোর্সের লেটার পাঠিয়েছে । অনেক কেঁদেছিল তিন্নি । ক্ষমা চেয়েছিল ফোন করে সিরাজের কাছে । কিন্তু সিরাজের মন গলেনি । বাধ্য হয়ে ডিভোর্স লেটারে সাইন করে দিয়েছিল তিন্নি ।
জিনিয়া সব শুনে তিন্নিকে বলল , যে তোকে এত ঘৃণা করে তার জন্য কাঁদিস কেন ? তিন্নি শুধু বলল ...আমি যে তাকে ভালোবাসি । মেয়েরা একবার যাকে মন থেকে ভালোবাসে তাকে ভুলেতে পারে না কোন দিন । আর ভালোবাসা কে তো আর ঘৃণা দ্বারা লুপ্ত করে দেওয়া যায় না মন থেকে । সেতো পবিত্র এক বিশ্বাসের বন্ধন ।
জিনিয়ার সহায়তায় ডক্টর এর সাথে দেখা করে তিন্নি নিজের একটা কিডনি সিরাজ কে দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে । কিন্তু তিন্নি সেই সঙ্গে অনুরধ করে , কেউ যেন জানতে না পারে যে সে তার কিডনি সিরাজ কে দিয়েছে । কারন সিরাজ তিন্নিকে এতই ঘৃণা করে যে সে যদি জানতে পারে তিন্নির কিডনি তার দেহে--- তাহলে সে আত্মহত্যা করে নিতে পারে । সেই রাতেই অপারেসান শুরু হবে ।
.............. সকালে জ্ঞান ফিরল তিন্নির , দেখল পাশে নার্স বন্ধু জিনিয়া বসে আছে । চোখ খুলেই প্রথমে জিজ্ঞাসা করলো , সিরাজ কেমন আছে ?
জিনিয়া হাসি মুখে বলল , সিরাজ একদম সুস্থ হয়ে গিয়েছে । তোর কিডনি তাকে এক নতুন জীবন দিয়েছে ।
তিন্নির চোখে মুখে আনন্দের প্রকাশ , কোমরের কাছে খুব ব্যাথা , তার দেহে এখন মাত্র একটাই কিডনি । তবুও কোন দুঃখ নেই । সিরাজ বেঁচে গিয়েছে এটাই সব চেয়ে বড় পাওয়া তার কাছে ।
খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল সিরাজ কে একবার । কিন্তু জিনিয়া বলল তোরা দু জনেই অসুস্থ । তিন দিন পর নিয়ে যাব তার কাছে তোকে ।
তিন্নি ব্যাড এ শুয়ে শুয়ে শুধু সময় গুনতে থাকে , আর ভাবতে থাকে ... তিন দিন কবে শেষ হবে , কবে সেই দিন আসবে , মন ভরে দেখতে চায় সিরাজ কে সে ।
সেই সময় এল ,যখন তিন্নি আর সিরাজ কে একসাথে ছুটি করে দিলেন । তিন্নি মনের মধ্যে বহু স্বপ্ন নিয়ে ধীরে ধীরে সিরাজের রুম এর দিয়ে এগিয়ে গেল । সিরাজ কে তার বাবা আর বোন ধরে ধরে বাড়ী নিয়ে যাবে বলে বের করে নিয়ে আসছিল । তিন্নি কে দেখে সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো । সিরাজের বোন ভাবী আসুন বলে রুমে আমন্ত্রন জানালো । কিন্তু সিরাজ তিন্নিকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিল । চিৎকার করে বলল , “ ও এখনে এসেছে কেন ? আমি মরে গিয়েছি কিনা দেখতে এসেছে , এখুনি চলে যেতে বল এখান থেকে । আমি তার মুখ দেখতে চাই না । “
সিরাজের মুখ থেকে কথা গুলো শুনে তিন্নি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না , কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে বেরিয়ে ছুট দিল ..................
তিন্নি যে সেদিন ছুটে কোথায় চলে গেল কেউ আর তার খোঁজ পায় নি । কিছু দিন পর কাসাই নদীর ধারে একটা মেয়ের পচা লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছিল । মুখ বিকৃত হয়ে যাওয়ার কারনে চেনা যাই নি ......... কে জানে সে কোন হতভাগী ।
.................................সমাপ্ত ...........................।।

 





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?