গল্প - ছুটির ঘণ্টা / তারিফ আলম

20th September 2023 7:04 pm তারিফ আলম
গল্প - ছুটির ঘণ্টা / তারিফ আলম


ছুটির ঘণ্টা
লেখা – তারিফ আলম


মাকে প্রণাম করে কুন্তল ব্যাগ টা নিয়ে বাবার খোঁজ করতে বোন রিমা এসে বলল যে, বাবা বাজারে গিয়েছেন , এখুনি চলে আসবেন ।
কুন্তল একটু বিরক্ত হয়ে বলল , বাবা অসুস্থ শরীর নিয়ে বাজারে কেন গেলেন আবার । আমার স্কুলে আজ প্রথম দিন , দেরি হয়ে যাবে যে ।
এমন সময় অজিত বাবু প্রবেশ করলেন রুমে , হাতে একটা ব্যাগ । বাজার থেকে একটা হালকা নীল রঙ এর নতুন জামা কিনে এনেছেন । ছেলের আজ স্কুলে চাকরিতে যোগদানের প্রথম দিন , তাই এই নতুন জামা টা ছেলেকে পরে নিতে বললেন ।
কুন্তল একটু মৃদু হেসে জামাটা পরে নিয়ে ইন করে নিতে খুব স্মাট লাগছিল । বাবাকে প্রণাম করে দ্রুত বাড়ী থেকে বিদায় নিয়ে বাস স্ট্যান্ড এ এসে উপস্থিত হল । সেখানে অনুপ বাবুর সাথে দেখা , কুন্তলের এলাকাতেই বাড়ী , কুন্তল তার ছেলেকে টিউশনও পড়িয়েছে কয়েক বছর আগে । তিনি এসে বলতে লাগলেন আপনার লেখা কবিতার বই টা আমি পড়েছি । খুব সুন্দর আপনি লেখেন । আমাদের ক্লাবের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আপনাকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রন জানাচ্ছি । আপনি দয়াকরে আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে খুব আনন্দিত হব ।
কুন্তল মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো । ৩২ বছর বয়সী কুন্তল রায় এলাকায় খুব সম্মানীয় ব্যাক্তি । কবিতা লেখা ও সমাজ সেবা করার জন্য সকলে তাকে খুব ভালোবাসে আর সম্মান করে । সেই সঙ্গে গরীব ছেলে মেয়েদের বিনা পয়সায় টিউশনও পড়ায় ।
এমন সময় বাস চলে এলে কুন্তল বাসে উঠে পড়ে । বাখরাবাদ পৌঁছে মেন রোড ধরে একটু এগিয়ে যেতেই বিশাল স্যামচরন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল । কুন্তল একটি ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে প্রধান শিক্ষক এর রুম কোনটা । ছেলেটি সঙ্গে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দেয় । কুন্তল অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসতে বলেন । তারপর কুন্তলের সার্টিফিকেট গুলো দেখতে চাইলে কুন্তল ফাইল টা বাড়িয়ে দেয় । হেড স্যার সার্টিফিকেট দেখে বললেন, আপনি তো ইংরেজিতে এম এ , বি এড , সব এ ফাস্ট ক্লাস । এস এস সি এর নবম – দশম বা একাদশ – দ্বাদশ এ পাস করেন নি ।
কুন্তল খুব দুঃখের এর সাথে বলল যে, পরীক্ষার কয়েক দিন আগেই বাবার হাট অ্যাটাক হয় । বাবাকে নিয়ে ভেলর গিয়েছিলাম । তাই পরীক্ষা দিতে পারি নি । তবে নেট পাস করেছি ।
প্রধান শিক্ষক কুন্তল কে নিয়ে স্টাফ রুমে গেলেন । সেখানে সকল শিক্ষক শিক্ষিকা গল্প করছিলেন । প্রধান শিক্ষক সকল কে উদ্দেশ্য করে বললেন যে , ইনি কুন্তল রায় , আমাদের স্কুলের গ্রুপ ডি কর্মী হিসাবে আজই যোগদান করেছেন ।
এমন সময় একজন লোক ডাকতে প্রধান শিক্ষক সেখান থেকে চলে গেলেন । একজন শিক্ষক কুন্তল কে দেখে বললেন, যা ড্রেস , আমি মনে করলাম কোন নতুন শিক্ষক এলেন হয়তো , কিন্তু এ তো এইট পাস কর্মী ......এই বলে তাচ্ছিলের হাসি হাসতে লাগলেন । তার সঙ্গে অন্যরাও যোগ দিলেন । কুন্তল লজ্জায় নিজের জামার ইন টা খূলে ফেললো ।
এমন সময় একজন শিক্ষক বললেন , যাও কাজে লেগে পড় । স্কুল শুরুর ঘণ্টা টা দিয়ে দাও । কুন্তল হাতুড়ি নিয়ে জোরে জোরে আঘাত করে ঘণ্টা দিয়ে দিল । একজন শিক্ষিকা কুন্তল কে ডেকে অফিস রুম এর মধ্যে ধুলো দেখিয়ে বললেন , এখানে ঐ ঝাঁটা টা দিয়ে ঝাঁট দিয়ে দাও , অনেক নোংরা আর ধুলো ।
কুন্তল কোনোদিন ঝাঁট দেয় নি , তাই সে ঝাঁটা নিয়ে ঝাঁট দেওয়ার সময় ধুলো উড়তে লাগলো । শিক্ষকদের নাকে মুখে একটু ধুলো লাগতেই চিৎকার করে উঠলেন , এত বোকা কোথাকার , সরকার যাকে তাকে চাকরি দিয়ে দিচ্ছে । জল দিয়ে ঝাঁট দিতে হয় জানো না । ঐ বালতি নিয়ে জল নিয়ে এসো যাও । কুন্তল নিজের কাজের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে বালতিতে করে জল নিয়ে এসে চারিদিকে ছিটিয়ে দিয়ে ঝাঁট দিতে লাগলো । এমন সময় এক দিদিমনি দ্রুত রুমে ঢুকতে গিয়ে জলের কারনে পিচ্ছিল হওয়ায় পা পিছলে দড়াম করে পড়ে গেলেন ।
উ মা গো ... বাবা রে আমর কোমর গেল গো ...
অন্য সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা এসে তাঁকে তুললেন , তিনি তার পা পিছলে পড়ার জন্য কুন্তল কে দোষী করে বলতে লাগলেন , কেন যে এই সব অকর্মণ্য ছেলে গুলোকে চাকরি দেয় কে জানে ? মূর্খ সব , বুদ্ধিহীন । এই বলে কুন্তলকে তিরস্কার করতে থাকে । তার সঙ্গে সঙ্গে অনান্য শিক্ষকরাও বকাবকি করতে থাকে কুন্তল কে । কুন্তল শুধু হাত জড় করে তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে । এত অপমান আগে কোন দিনও সহ্য করতে হয় নি তাকে , কষ্টে দু চোখ দিয়ে অশ্রু বেরিয়ে আসে ।
এমন সময় একজন কুন্তলের হাতে একটা নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে বলে সব ক্লাস গুলোতে নিয়ে যেতে । কুন্তল নোটিশ নিয়ে সব ক্লাস গুলোতে গিয়ে শিক্ষকদের হাতে দেয় । ইংরেজিতে নোটিশটা অনেক শিক্ষক পড়ার সময় ভুল উচ্চারন করে পড়ে । কিন্ত কুন্তল গ্রুপ ডি কর্মী , তাই শিক্ষকদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার নাই ।
টিফিনের সময় একজন শিক্ষক কুন্তল কে ডেকে বলেণ যে , স্কুলের বাইরের চা দোকান থেকে ১৫ টা চা আনতে । কুন্তল স্কুলের বাইরে দোকানে যেতে চা দোকানী তার হাতে একটা চা এর কেটলি আর কিছু প্লাস্টিকের কাপ ধরিয়ে দেয় । কুন্তল সে গুলো নিয়ে স্টাফ রুমে প্রবেশ করতেই একজন শিক্ষক সবাইকে চা দিতে বলেন । কুন্তল তখন সবাইকে কাপে চা ঢেলে ঢেলে দিতে লাগল , নিজেকে মনে হচ্ছিল কোন চা দোকানের টি বয় এর মতো , নিজের মান - সম্মান সব ধুলায় মিশে যাচ্ছিল । মনে হচ্ছিল কখন ছুটির ঘণ্টা বাজাবে সে । তার ছুটির ঘণ্টা , অপমানের , তাচ্ছিলের , তিরস্কারের ছুটির ঘণ্টা ।
যায় হোক , ছুটির ঘণ্টা টা বাজাতেই আর থাকতে পারছিল না সে স্কুলে । বাড়ী ফিরতেই বাবা মা বোন সকলে এসে জিজ্ঞাসা করে কেমন কাটল স্কুলে চাকরির প্রথম দিন ?
কুন্তল কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো । এত অপমান জীবনে সে কোন দিন হয় নি । সমাজে সকলের কাছে এত সম্মান পাওয়ার পর কর্মক্ষেত্রে গিয়ে এই অপমান সে সহ্য করতে পারছিল না । কষ্টে প্রান বেরিয়ে যাচ্ছিল প্রায় । দীর্ঘ দিন ধরে এস এস সি ও অন্যন্য চাকরির পরীক্ষা বন্ধ থাকার কারনে বাধ্য হয়ে গ্রুপ ডি পরীক্ষাতে বসেছিল সে । কিন্তু সে আজ বুঝল যে , মানুষ কেবল চাকরি কেই গুরুত্ব ও সম্মান দেয় । যোগ্য মানুষ কে নয় ।
..........................................সমাপ্ত ..............................।

 





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?