না বলা কথার পাতা / তারিফ আলম

20th September 2023 7:08 pm তারিফ আলম
না বলা কথার পাতা / তারিফ আলম


না বলা কথার পাতা
লেখা – তারিফ আলম


একটা না বলা কথার পাতা উড়ে যাচ্ছে সাদা পালকের আঁশে । তবুও আমার মুখে কুলুপ আঁটা । মনের গভীরে অবিশ্রান্ত ঢেউ এর আছাড় - কাছাড় । এত টুকরো - টাকরা কথা ঝেড়ে মুছে সাজাতে গোছাতে আনমনা হয়ে ওঠে সতর্ক সময় । সবার জন্য কি না বলা তুলে রাখি ? তবু না বলা কথা কি কখনো মরে যায় ?
------- গোধূলির ম্লান আলোয় চারিদিকে এক অজানা রহস্যের বাতাবরন সৃষ্টি করেছে , সূর্য তার তেজ হারিয়ে এখন অস্তমিত প্রায় , আর কিছুক্ষনের মধ্যেই অন্ধকার নামবে - ঘন অন্ধকার । সেই ঘন অন্ধকারের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চায় তাহির । নিজেকেও দেখতে চায় না সে - ঘৃণা ধরে গিয়েছে নিজের উপর । আজ কি ভুলটাই না সে করে ফেলল , যাকে মন প্রান দিয়ে ভালবাসে , তাকেই কিনা অপমান করে বসলো । শুধুমাত্র বন্ধুর কথা ভেবে । ভুল ...... অনেক বড় ভুল হয়ে গিয়েছে ।
ইউনিভারসিটি তে পড়তে আসার পর প্রথম যে মেয়েটিকে তাহিরের খুব ভালো লেগেছিল সে সানিয়া । এক বান্ধবী পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সানিয়ার সাথে । খুবই মিষ্টি এবং শান্ত স্বভাবের সানিয়ার সাথে প্রথম দিন কথা বলার পর থেকেই তার প্রতি অজানা এক মোহে আচ্ছাদিত হয়ে যায় তাহিরের মন । চলতে - ফিরতে , ভিড়ের মাঝে কি একাকীত্বে --- সারাক্ষন শুধুই সানিয়ার কথা চিন্তা । মনের মাঝে উঁকি দিয়ে চলে যায় আগোছালো কিছু সুখ স্বপ্নের ভেলা । শরতে নির্মল আকাশে যে রুপ তুলোর মতো মেঘরাশি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভেসে বেড়ায় , অনেকটা সেই রকম । কিন্তু ঐ সব ভেসে যাওয়া মেঘের যেমন কুল কিনারা নেই , তাহিরের স্বপ্নেরও কোন কুল কিনারা নেই । সানিয়াকে নিয়েই তার সব স্বপ্ন । সানিয়াকে কি ভাবে I love you বলবে , কি ভাবে বিয়ে হবে তাদের , কতই না সুখের সংসার হবে তাদের -- এত সব স্বপ্ন , এত সব মনের কথা -- পাশে এই মুহূর্তে থাকলে হয়তো বলে দিত সবই ।
------ সব কিছু লন্ড ভন্ড হয়ে যায় সেই দিন - যে দিন নিজের সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু জুলফিকার এর সাথে সানিয়ার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তাহির । তারপর থেকেই জুলফিকার জিদ ধরে সানিয়ার সাথে প্রেম করার জন্য , তাহিরের কাছে কাকুতি - মিনতি করতে থাকে । তাহির অবশ্য সানিয়াকে মনে মনে ভালোবাসার কথা জুলফিকারকে জানায় নি , শুধু বলেছিল সানিয়া তার ভালো বন্ধু ।
এদিকে জুলফিকার অনেক ভাবে অনেক সময় তাহিরকে সাহায্য করেছে । তাছাড়া জুলফিকার আগে প্রেমে আঘাত পেয়েছিল । সব সময় সেই দুঃখের কথা বলে । অনেক ভেবে সিধান্ত নেয় - জুলফিকার কে সে সাহায্য করবে যাতে সানিয়ার সাথে প্রেম হয় । নিজের মনের মাঝে জন্ম নেওয়া নির্মল ভালোবাসার স্বপ্ন গুলোর অকাল সমাধি দেবে সে ।
------ ক্লাস শেষে সকলে যখন ঘরে ফেরার জন্য ব্যস্ত । তাহির ধীর গতিতে এগিয়ে যায় সানিয়ার ডিপার্টমেন্ট এর দিকে । সানিয়া কয়েকজন তার বান্ধবীর সাথে অপেক্ষা করছিল । তাহির কে দেখে এগিয়ে এল । হাল্কা সবুজ রঙ এর সালোয়ারে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল তাকে ।
তাহির সানিয়াকে নিয়ে ইউনিভারসিটি ক্যান্টিন এ এল । ক্যান্টিন পুরো ফাঁকা ছিল । ক্যান্টিন এর কর্মচারীরা বাদে আর কেউ ছিল না । সানিয়াকে ডেকে নিয়ে একটা চেয়ারে বসতে বলে নিজে তার পাশে রাখা আর একটা চেয়ারে বসলো ।
সানিয়া তুমি কিছু খাবে ?
সানিয়া মাথা নেড়ে 'না' বলল ।
তোমাকে একটা কথা বলতে চাই - খুব ধীরে ধীরে কথা গুলো বলে তাহির ।
কি কথা ? খুব উদগ্রীব হয়ে সানিয়া জানতে চায় ।
খুব কষ্টে মনের উপর পাথর চাপা দিয়ে তাহির বলা শুরু করে -- ' "আমাদের দু জনের সম্পর্ক নিয়ে বন্ধু - বান্ধবীরা ভুল ধারনা তৈরি করছে । সকলে বলছে যে আমাদের দু জনের মধ্যে প্রেম আছে । কিন্তু এটা ঠিক নয় , আমরা দু জনে শুধুই ভালো বন্ধু । আর কিছু নয় "
কথা গুলো শুনে সানিয়ার মন খারাপ হয়ে গেল । সে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ে চলে যেতে চাইল ।
মন চাইছিল তাহিরের তাকে আটকানোর , কিন্তু সে যে সানিয়াকে খুব অপমান করে দিল । সদ্য প্রস্ফুটিত প্রেমের কুঁড়িকে সে যে নিজ হাতে দলে মুচড়ে ছিড়ে ফেলল । কিন্তু জুলফিকারের জন্য নিজেকে সানিয়ার কাছে থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কোন উপায়ও তো নেই ।
তাহির আর বাধা দিল না , সানিয়া চলে যাচ্ছিল । তাহির দাঁড়িয়ে থেকে তার চলে যাওয়া দেখছিল , নিজেকে মনে হচ্ছিল মৃত । অন্তহীন অন্ধকার এর গুহায় নিজের মৃত মন কে অন্তঃশীল করে রেখে দিয়েছে । তাকে আর খুঁজে পাবে না কেউ । উফ কি কষ্ট - জীবনে এত কষ্ট কোনোদিনও পায় নি সে ।
------- ইউনিভারসিটি এর বয়েজ হোস্টেল এর ছাদে একা দাঁড়িয়ে তাহির । একটু একা থাকার জন্য চলে এসেছে তিনতলার ছাদে । হটাত পিছন সিঁড়ি থেকে জুলফিকার এর গলার আওয়াজ এ তাহিরের একাকীত্বের সময় এর সমাপ্তি হল ।
কিরে তুই এখানে একা কি করছিস , আর আমি তোকে পুরো হোস্টেল খুঁজে ফিরছি , একটু বিরক্তির সুরে জুলফিকার বলল ।
তাহির কোন প্রতিক্রিয়া না দিয়ে চুপ করে সামনের দিকে চেয়ে থাকলো ।
কি হল , তোকে এত মনমরা লাগছে কেন ?
জুলফিকার এর প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে অতি শান্ত স্বরে তাহির বলল , সানিয়া খুব ভাল মেয়ে । তুই তার সাথে দেখা করে বলে দে যে , তুই তাকে ভালোবাসিস , তাকে বিয়ে করতে চাস ।
জুলফিকার জোরে হেসে উঠলো , কি যে বলিস , আমার সাথে সানিয়ার প্রেম .........হা হা হা ...... আমি কাউকে ভালোবাসি না , আর আমার দ্বারা প্রেম - টেম হবে না ।
কথা গুলো শুনে তাহিরের মাথায় যেন বজ্রপাত হল ।
এই তো তিন দিন আগেই তুই বললি যে , সানিয়াকে তুই খুব ভালোবেসে ফেলেছিস , তাকে না পেলে মরে যাবি । আমার কাছে তুই এ সব কথা বললি যে ।
তখন মনে হচ্ছিল , কিন্তু সব বন্ধু - বান্ধবীরা তো বলছিল , তোর আর সানিয়ার মধ্যে প্রেম আছে । তুই ই কর । তোদের দুজনের ভালো মানাবে ।
জুলফিকারের কথা গুলো শুনে আর নিজেকে তাহির ঠিক রাখতে পারল না । প্রচণ্ড রাগে দুঃখে নিজের হাত টা নিয়ে খুব জোরে আঘাত করলো দেওয়ালে ।
তাহির কে ঐ ভাবে রেগে যেতে দেখে জুলফিকার দ্রুত নীচে নেমে গেল ।
তাহির একা চেয়ে থাকলো অস্তমিত সূর্যের দিকে , কি বিশাল ভুলই না সে করে ফেলেছে । সানিয়ার ভালবাসাকে ঐ ভাবে অপমান করেছে । কত দুঃখই না পেয়েছে সানিয়া ।
ধীরে ধীরে সূর্য হারিয়ে গেল , অন্ধকার ঘিরে ধরেছে সমগ্র প্রকৃতিকে , প্রবল সীমাহীন অন্ধকার , এই অন্ধকারে হারিয়ে যেতে চায় সে --- চিরদিনের জন্য , দৃষ্টি ক্রমস্য ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে তাহিরের, ফোটা ফোটা অশ্রুর কনা ঝরে পড়ছে দু গাল বেয়ে ।
জানতে - অজান্তে মানুষ জীবনে কতই না ভুল করে বসে , সেই ভুল গুলো শুধরানোর সুযোগও পায় না আর । এই ভাবে কত সদ্য ফোটা ভালোবাসার ফুল ঝরে পড়ে বিষাদে , দারুন ভাগ্যের নিদারুন পরিহাসে সব কিছুই গোড়াতেই শেষ হয়ে যায় । শুধু বাকি থেকে যায় কিছু স্মৃতি , যা মনের কোন এক স্থানে গোপনে বাসা বেঁধে বসবাস করে আপন খেয়ালে ।

........................ সমাপ্ত ......................





Others News

ভুল / তারিফ আলম

ভুল / তারিফ আলম


*ভুল*
লেখা – তারিফ আলম

আমার রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে এলাম । দিদিমার ঘুমের ওষুধের কৌটোটা চুরি করে নিয়ে এসেছি । দেখলাম তার মধ্যে ৭ টা মতো বড়ি আছে । সব গুলো এক সাথে খেয়ে ঘুমালে আর কোন দিন ঘুম ভাঙ্গবে না মনে হয় । যদি ভেঙে যায় ? এদিকে নিজের ওড়না টা সিলিং ফ্যানে বেঁধে রেখেছি , গলায় দিয়ে ঝুলে পড়বো ভাবছি ...............কি করবো বলুন তো ?
ওহ ...... আপনাদের তো বলাই হয় নি । আমি তুলসী , ক্লাস টেন এ পড়ি মোহনপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে । আমার বাবা অমিত মাইতি একটি প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার । গ্রামের সকলে তাঁকে খুব সম্মান করেন । আমিও আমার বাবা – মা কে খুব ভালোবাসি ।
কিন্ত আমার জীবন টা পুরো বদলে গেল যখন ভালোবাসা টা অন্য কাউকে দিতে গিয়েছিলাম ......... সে রকি । কলেজে পড়ে , খুব বড়লোকের ছেলে । স্কিন টাইট গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট – এ তাকে খুব সুন্দর লাগতো । তার এক কান দুল আর গলায় ও হাতে চেন – মনে হতো যেন হিন্দি সিনেমার হিরো বরুন এর মতো । আমি যখন স্কুলে যেতাম বা স্কুল থেকে ফিরতাম সে তার নতুন সুন্দর দামী বাইক টা নিয়ে আমার চলার পথের আশে – পাশে চক্কর দিত , আর আমাকে মাঝে মাঝে ইশারা করতো । আমি সব দেখলেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যেতাম ।
একদিন আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছিলাম তখন সে তার বাইক নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়ায় , তারপর আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে আবার বাইক নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । আমি বাড়ী ফিরে ভীষণ কৌতূহল নিয়ে চিরকুট টি ব্যাগ থেকে বের করে দেখি যে তাতে লেখা ... I LOVE YOU TULSI ,
মনটা সেদিন কেমন এক অজানা অনুভুতিতে ভরে গিয়েছিল । তার পরের দিন আমার মোবাইলে অজানা এক নাম্বার থেকে ফোন আসে । রিসভ করতে , ও দিক থেকে রকির গলা । কেমন আছো তুলসী । আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি , তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
আমি সে দিন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারি নি । সারা রাত একটুও ঘুম আসে নি । সারা রাত শুধু তার কথা ভেবেছিলাম । সকালে যখন আবার রকি ফোন করে জানতে চায় তখন তাকে মানা করতে পারি নি । বলে দিয়েছিলাম যে , আমিও তাকে ভালোবাসি ।
সেই দিন স্কুল যাওয়ার পথে সে তার বাইক নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় , লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না । সে আমাকে তার বাইকে বসতে অনেক অনুরধ করায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও তার মন রাখতে চেপে বসেছিলাম । সে বাইক ছুটিয়ে সে দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মনালিসা পার্ক এ । সেই পার্কে অনেক যুবক যুবতী বিভিন্ন স্থানে বসে প্রেম করছিল । আমি প্রথম ঐ পার্কে গেলাম । এক পাশে বসে আমি আর রকি গল্প করছিলাম । রকি সে দিন হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । রকি তার মোবাইল নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি আর ভিডিও তুলছিল । সে আমার বক্ষকে অর্ধ অনাবৃত করে ছবি আর ভিডিও তুলতে শুরু করে । আমি বাধা দি , ছবি আর ভিডিও ডিলিট করতে বলি , কিন্তু সে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে বলে যে সে সে গুলো দেখে পরে ডিলিট করে দেবে । আমি তাকে বিশ্বাস করছিলাম । তার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করেছিলাম । তাই আর কিছু বলেছিলাম না ।
কিন্তু যখন স্কুলে আমার সিনিয়র কাকলি দি এর কাছে জানতে পারলাম যে , রকি একটা বাজে ছেলে । কাকলি দি এর সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক করে তার সর্বনাশ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে , তখন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি । তার ফোন রিসিভ করতাম না । একবার ফোন করতে তাকে আমি বলেছিলাম যে , সে একটা শয়তান ।
সে শুনে হা হা করে শয়তানের হসি হেসে বলেছিল , তার সাথে বাইকে চেপে যদি না যাই সে আমার ক্ষতি করে দেবে । আমি তার ফোন নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে দিয়েছিলাম ।
তারপর দিন যখন স্কুলে গিয়েছি তখন বান্ধবী রিনা ছুটে এসে আমাকে ক্লাস রুমের এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভিডিও দেখাল । সেই ভিডিও টা পার্কে তোলা রকির ভিডিও যেখানে আমার অর্ধ নগ্ন বক্ষ দেখা যাচ্ছে । রিনা বলল প্রায় সবার ওয়াটস ওয়্যাপ এ এই ভিডিও টা কেউ সেন্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
ভিডিও টা দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি , লজ্জায় আর ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলাম । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তা জানি না । যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কমন রুমে শুয়ে আছি । আমকে ঘিয়ে সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা । একটু দূরে দেখলাম স্কুলের হেড স্যার এর সাথে আমার বাবা । বাবাকে স্কুল থেকে খবর দিয়ে হয়তো ডেকে এনেছে । বাবা সব দেখেছেন । ভাবছেন তার মেয়ে কত নোংরা , কত অসভ্য । কি লজ্জা .........উউ ফফফফ কি কষ্ট । মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে । বাবার কত সম্মান আজ সব আমি মাটিতে মিলিয়ে দিলাম , কেন যে এত বড় ভুল করলাম , কেন যে রকির মতো একটা শয়তানকে ভালবাসতে গেলাম । তার অন্তরের রুপ না বুঝে কেবল বাইরের রুপের উজ্জলের আলোক বশীভূত হয়ে কি ভুল না করে ফেলেছি । আমি কাঁদছিলাম , কমন রুমের বাইরে উৎসুক ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় । নিজের বুকে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে ধরেছিলাম । যেতে কেউ না দেখে এই ‘নারী বক্ষ’ । উফফফফ কি লজ্জা । চোখ খুলে তাকাতে পারছিলাম না ।
বাবা এসে আমাকে কিছু বললেন না , শুধু মাথায় হাত বোলালেন , আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেছিলাম , বাবার চোখেও জল ছিল ।
বাবার সাথে বাড়ী ফিরতেই মা দৌড়ে এসে আমার চুল মুঠি ধরে একটার পর একটা চড় মারতে লাগলেন । আর বলতে লাগলেন , কেন এই অসভ্য নোংরা মেয়েটাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম । আমি কাঁদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো মা , আমি একটা নোংরা মেয়ে , তোমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছি । আমার বাঁচার কোন অধিকার নাই , আমাকে মেরে ফেলো মা ......মেরে ফেলো ।
বাবা আর দিদিমা এসে মা এর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে । আমি কাঁদছিলাম .........অনেক কাঁদছিলাম নিজের ভুলের জন্য ।
ওহ ...... আপনাদের নিজের দুখের কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল ......... এখন রাত ২ টা বাজে । বাড়ীর সকলে গভীর নিদ্রাতে মগ্ন । আমার হাতে ঘুমের ওষুধ আর ফ্যান এ টাঙ্গানো আমার ওড়নাটা । আপনারাই বলুন আমি এখন কি করবো ?